বিনোদন ডেস্ক: ভরদুপুরে আরব সাগরের তীর ধরে এগোচ্ছিল ট্যাক্সি। একসময় ভিড়ের কারণে থামতে হলো। ভিড়টা প্রাসাদোপম একটা বাড়ির কারণে। একটু পরপর এখানে নানা ধরনের গাড়ি থামছে। থামছে পাবলিক বাসও। ঠিক বাড়িটার সামনেই। যাঁরা নামছেন, প্রথম যাচ্ছেন বাড়িটির সদর দরজায়। ছবি তুলে রাস্তার অন্য পাশে গিয়ে ভিড় করছেন। বাড়ির নাম ‘মান্নাত’। এই বাড়িতে থাকেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। বছরের পর বছর যাঁর দাপট উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ছবিবাজারে। আজ তাঁর জন্মদিন।
একটা সামান্য নামকে নেমপ্লেট করে তোলার কঠিন যুদ্ধে বেশি কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি প্রেম, চরম আত্মবিশ্বাস আর মানসিক জোর নিয়ে এমন এক শহরে পা রাখলেন যেখানে তাঁর কোনও পরিজন নেই। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও এই স্বপ্ন দেখার সাহস পান না অনেকেই। কিন্তু তিনি তো সেই ফিলগুড স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, যাঁর নাম 'শাহরুখ খান'। আশ্চর্য তাঁর খোয়াবনামা। অধিবাস্তব তাঁর জীবন কাহিনি। ধীরে ধীরে বিশ্বায়নের দুনিয়ায় সারা পৃথিবীতে ভারতীয় সিনেমার, সংস্কৃতির বাহক হয়ে উঠলেন তিনি। বিশ্বের দরবারে সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অন্য নাম হয়ে উঠলেন শাহরুখ খান। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অতি সাধারণ নামকে স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন দিল্লির মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলে, যা এখন অস্বীকার করার ক্ষমতা ইতিহাসেরও নেই।
নব্বইয়ের সময়ে দর্শকদের অভিনয়ের নতুন এক সূচনা দিয়েছিলো কিং খান। ক্রমে নির্মিত হল এক ধারণা, যার নাম শাহরুখ। যার প্রচ্ছদ বিশ্বায়ন নির্ধারিত, সনাতন সংস্কৃতির। যে দিওয়ানা বাজিগর আবার একই সঙ্গে গড়ে তোলে তাঁর স্বদেশ। সুখস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন তিনি পর্দায়। বাস্তব হয়েও তিনি স্বপ্নের অধিক।
তিনি যে অভিনেতা হতে পারেন পরিবারের কারোরই সেই ভরসা ছিল না। কিন্তু তিনি তো জেদি তাই স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ে হাতেখড়ি করে নিয়েছিলেন নিজেই। শুধুমাত্র তাঁর মা ভরসা রেখেছিলেন তাঁর উপর। গর্ব করে সকলকে বলতেন, 'ছেলে আমার দিলীপ কুমার হবে।' দিল্লি থেকে মুম্বই এসে আজিজ মির্জার অফিসে টেবিলের নিচে রাতে ঘুমাতো যে ছেলেটা আজ তাঁর ঘুম ভাঙে মুম্বইয়ে সমুদ্রের পাড়ে ২০০ কোটি টাকার বাংলোয়। এটা স্বপ্নের আখ্যান নাকি বাস্তব, গুলিয়ে যায় সবটাই। তাঁর চেহারা হিরোসুলভ নয় বলে তাঁকে ফিরিয়েছেন অনেক প্রযোজক। ছোটপর্দা দিয়েই কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু যিনি রাজা হতে এসেছেন তাঁকে দমিয়ে রাখা কি এতো সহজ! তাই কালের নিয়মেই শুরু হল তাঁর উথ্থান। সেকেন্ড হিরো হিসাবে সিনেমার দুনিয়ায় পা রাখলেও একের পর এক হিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনিই বক্সঅফিসের 'কিং'। তাই তো তিনি হাসির ছলে বলতে পারেন যে, ‘আপনি খুব ভালো হতে পারেন, আপনি সেরা হতে পারেন কিন্তু আমি তার থেকে আরেকটু ভালো’। এমনকী বলিউডে ৩০ বছর কাটিয়েও তিনি বলেন ‘এখন আর নিজেকে সেরা আমি বলি না কারণ সারা পৃথিবী সেটা মানে’। তবে শুধুই কি সাফল্য, ব্যর্থতাও এসেছে। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকেই পাথেয় করে এগিয়ে চলেছেন শাহরুখ, পর্দার অপ্রতিরোধ্য 'বাদশা'।
আজও তাঁকে ঘিরে উন্মাদনায় এতটুকু ঘাটতি পড়েনি। শুধুমাত্র তাঁদের স্বপ্নের নায়ককে এক ঝলক দেখার জন্য গতবছর জন্মদিনেও অনুরাগীদের ঢল নামে মন্নতের সামনে। গত বছর ফ্যানেদের সঙ্গে দেখা করতে মন্নতের বাইরে আসেননি তিনি। মন ভেঙেছেন অনুরাগীদের। কিন্তু তিনি তো শাহরুখ যিনি বলেন আমার দর্শকই আমার খুদা। সেই খুদাকে অসন্তুষ্ট করেন কী করে। তাই যাঁরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন বাইরে তাঁদের জন্য পাঠিয়েছিলেন খাবার ও জল। নাই বা দেখা হল, তাঁর এই ব্যবহারে মুগ্ধ ছিল ফ্যানেরা। তাই বুধবার ( ২ অক্টোবর) তাঁর ৫৭তম জন্মদিনে মন্নতের সামনে রাত ১২ টায় ভিড় জমিয়েছে ফ্যানেরা। এখন শুধু অপেক্ষা বড়পর্দায় তাঁর ফেরার। দীর্ঘ ৪ বছর পর ২০২৩ সালে একসঙ্গে তিনটি ছবি নিয়ে শাহরুখ ফিরছেন বড়পর্দায়। অপেক্ষায় দিন গুনছে অগুনতি দর্শক।
আমাদের কাগজ//টিএ






















