বিনোদন ২১ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৪৩

২৪ বছরের অনুপ্রেরণার জীবন ঐন্দ্রিলার

বিনোদন ডেস্ক: মাত্র চব্বিশেই থেমে গেল জীবন ঘড়ি। তবে এই অল্প সময়ে ঐন্দ্রিলা ছিলেন জীবনদীপ্ত। টানা ২০ দিনের প্রাণপণ লড়াই করেছেন তিনি। কথনো হয়তো চাননি নিজের এত্ত প্রিয় মানুষটিকে ছেড়ে যেতে। এই ছোট্ট জীবনেই রেখে গেলেন আমৃত্যু লড়াইয়ের এক অনুপ্রেরণা।

জন্মদিনের দিনই অভিনেত্রী প্রথম জানতে পেরেছিলেন, ক্যানসার বাসা বেঁধেছে শরীরে। সবে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অস্থিমজ্জার ক্যানসারে আক্রান্ত হন। শুরু হয় কেমোথেরাপি। দিল্লির এমসে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেই চলে চিকিৎসা। তখন ২০১৫ সাল। দেড় বছর চিকিৎসা চলার পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ঐন্দ্রিলা।

২০২১ সাল। ফেব্রুয়ারি মাসে আবার অসুস্থ। কাঁধে যন্ত্রণা শুরু হয়। জানা যায়, ডান দিকের ফুসফুসে টিউমার তৈরি হয়েছে। আবার শুরু হয় কেমো। অস্ত্রোপচার নিয়ে ঝুঁকি ছিল। তারপরেও অভিনেত্রী সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্রোপচারের। চলে জটিল অস্ত্রোপচার! আবারও সেই যুদ্ধে জয়ী হন তিনি।

কিন্তু ২০২০ এর  ১ নভেম্বর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। চলে যান কোমায়। সেই অবস্থাতেই কাটে ২০টি দিন। মাঝে ‘গ্লাসগো কোমা স্কেল’-এ ঐন্দ্রিলার চেতনার মাত্রা ৫-এর নিচে চলে যায়। দেখা যায় মেটাস্ট্যাটিক ইউয়িংস সারকোমাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তবুও লড়াই চালান ঐন্দ্রিলা। চিকিৎসকদের পাশাপাশি বাড়ির লোকজনের চলতে থাকে লড়াই। কখনও কখনও আশার আলো দেখা দেয়। অস্ত্রোপচারের ১০ দিনের মাথায় ফের মাথার বাঁদিকে স্ট্রোক হয় তার। ২০ তারিখ দুপুর ১২ টা ৫৯-এ সব শেষ। প্রয়াত হন অভিনেত্রী। শেষ হয়ে যায় সব লড়াই।

অভিনেত্রীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঐন্দ্রিলাকে ‘ফাইটার’ বলেছেন তিনি। শোকবার্তায় কুর্নিশ জানিয়ে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতিময়ী তরুণী এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর।’ মমতা আরও লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে এ বছর ‘অসাধারণ প্রত্যাবর্তন’ বিভাগে টেলিসম্মান অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে।” আরও যোগ করলেন, ‘ঐন্দ্রিলা মারণরোগের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করেছেন, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আমাদের কাগজ//জেডআই