বিনোদন ডেস্ক
বলিউড মানেই যেখানে রাখ ঢাক সেখানে অকপটে সব সত্য বলে দেয়ার খুব কম সাহসই দেখা যায় বলিউড তারকাদের মধ্যে কিন্তু কঙ্গনা রানাওত হয়ত একটু ভিন্ন তাই তাকে বলিউডের বিদ্রোহী কন্যা বলা হয়।
এই সময়ে তার পরিচিতিটি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। গ্ল্যামার জগত ছাড়িয়ে সেই আলোড়ন রাজনীতির অঙ্গনে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আজকাল সবার মুখে মুখে তার নামটি বেশ আলোচিত হচ্ছে। ঠোঁটকাটা স্বভাবের মেয়ে বলে এমনিতেই সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। সিনিয়র-জুনিয়র কেউই তার তীর্যক মন্তব্যের কবল থেকে মুক্ত নয়। উল্টাপাল্টা, অনিয়ম, অন্যায় আচরণ নিগ্রহ বলিউডের যেখানেই যাই ঘটুক না কেন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদী হয়ে তীর্যক মন্তব্য ছুঁড়ে দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেন না বলিউডের তারকাখ্যাত এই অভিনেত্রী।
বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন ছাড়া তারা ঠিক তেমন কোন বিষয় নিয়ে মুখ খুলেন না।সমসাময়িক অন্যান্য অনেক তারকা অভিনেতা অভিনেত্রী কোন ইস্যুতে মিডিয়াতে প্রকাশ করেন না। কিংবা কোনো বেঁফাঁস কটু মন্তব্য করে বেকায়দা অবস্থার মধ্যে পড়তে চান না কৌশলে গাঁ বাঁচিয়ে চলে, ক্যারিয়ারে ও ব্যক্তিগত জীবনে অযথা কোনোপ্রকার আঁচ লাগতে দিতে চান না।
তেমনি পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে কঙ্গনাকে অসাধারণ ব্যতিক্রম বলা যায় অনায়সেই। বলিউডে ঘটে যাওয়া যে কোনো ধরনের ঘটনা ও ইস্যুতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে ধরে রাখা কিংবা প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে ঠোঁটকাটা মন্তব্য করে নিজেকে বিদ্রোহী কন্যারূপে জাহির করতে মোটেও পিছপা হন না কঙ্গনা। এ কারণে গত কয়েক বছরে অনেকবার মারাত্মক কিছু ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়েছে তাকে।
কারো বিরুদ্ধে মুখ খুললে অনেক অপ্রিয় অসুন্দর সত্যি কথা বেরিয়ে আসে। কঙ্গনাকে এ জন্য অনেকেই আলাদাভাবে পছন্দ করেন এবং সমর্থনও করেন। আবার যারা তাকে দেখতে পারেন না, তার মন্তব্যে যাদের আঁতে ঘা লাগে তারা তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত, মতলববাজ, চরিত্রহীন, নারী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে ছাড়েন না। মফস্বল শহর থেকে কাজের ধান্ধায় কিশোরী বয়সে মুম্বাই শহরে পা রাখার পর তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক অন্যায় করেছেন কেউ কেউ। তার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে বহুবার। সে কথা গুলো ও বলেছেন ভীতিহীনভাবে কোন সমলোচনার তোয়াক্কা ছাড়াই।
অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি ও হূত্বিক রোশনের সম্পর্কে খোলামেলা নানা কথা বলে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন এই বিদ্রোহী অভিনেত্রী। গত বেশ কয়েকমাসে বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রীতিমতো টর্নেডো ঝড় সৃষ্টি করেছেন তিনি বলিউডসহ ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বলিউডে বিরাজমান ‘নেপোটিজম’ নিয়ে তিনি প্রথম মুখ খুলে। তারকা পরিবারের ছেলেমেয়ে নায়ক-নায়িকাদের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তি, এর বাইরে সাধারণ পরিবার থেকে আসা নন ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের সম্ভাবনাময় অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রতি চরম অবহেলা, বঞ্চনা, নিগ্রহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অনেক অপ্রিয় সত্যি কথা বলে বিতর্ক ও আলোচনা উস্কে দিয়েছেন তিনি।
বলিউডের প্রভাবশালী চিত্রনির্মাতা, প্রযোজক,পরিচালকের স্বেচচ্ছাচারী আচরণ, অনিয়ম, দুর্নীতি,নানা কর্মকান্ড ইত্যাদি বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন কঙ্গনা। ফলে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেক রথি মহারথী। কঙ্গনার সঙ্গে সুর মিলিয়ে এরপর আরো অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী সাহসী মন্তব্য করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বলিউড অনিয়ম, অন্যায়, স্বেচ্ছাচার ইত্যাদির বিবরণ তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মনোযোগ আকর্ষণ করে টুইটও করেছেন তিনি।






















