বিনোদন ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:৪২

কৃতি বেঁচে থাকতে চান শ্রোতাদের মাঝে

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

নুসরাত জাহান কৃতি পারিবারিকভাবেই শিল্পী সত্ত্বার পেয়েছেন । আর বয়স বাড়ার সাথে সাথে  নিয়ম করেই সেই সত্ত্বার যত্ন নিয়েছেন। আত্মবিশ্বাসী এই শিল্পী তাল-লয় ঠিক রেখে পছন্দের গান গাওয়ার মাঝেই তৃপ্তি খুঁজে পান তিনি। 

কৃতি বলেন, আমার পরিবারের সবাই গান শুনতে ভালোবাসেন। এককথায় বলা চলে ছোট বেলায় পড়ালেখার মত নিয়ম করে গান শোনা হয়েছে আমার।  লতা মঙ্গেশকরের গানগুলো আমার কাছে বেশি শোনা হত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ‘লাগ যা গালে কে ফির…ইয়ে হাসিন রাত হো না হো’কতবার যে শোনা হয়েছে তা গুণে শেষ করা যাবে না। 

অনেকের গান শুনলেও ভক্ত হয়ে পড়ি লতা মঙ্গেশকরের। কিংবদন্তী এই মানুষটির সুর কিভাবে মানুষের হৃদয় আলোড়িত করে, মুহুর্তেই পরিবর্তন এনে দেয় বোধের। বিষয়গুলো আমাকে ভাবাতো সব সময়। এই ভাবনা থেকেই নিজেকে সঙ্গীতশিল্পী বানানোর প্রচেষ্টা। ’

এই প্রচেষ্টায় কৃতি’র সবচেয়ে বড় সহযোগী বাবা সংগীতশিল্পী মোস্তফা কাইয়ুম। তাঁর কাছেই দীর্ঘদিন তালিম নেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিখেছেন সরকারি সঙ্গীত কলেজ থেকে। এখন নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি সবধরণের গানে পারদর্শী তিনি। চলচ্চিত্রের গানে প্লে­ব্যাক করার সুযোগ হয়েছে তার। ২০১৪ সালে বুনোকৃতি নামে একটি ব্যান্ডদল গড়ে তুলেছেন তিনি। ব্যান্ডের লিড ভোকালিস্ট হিসেবে সংগীত পরিবেশন করছেন।

বাংলা, তামিল, উর্দু, আরবি, ইংরেজি, হিন্দী, স্পেনিস এই সাত ভাষায় গাইতে পারেন তিনি। কৃতি বলেন, ‘সঙ্গীত কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বুঝতে পাড়ি গানের পরিসর আসলে কতো বড়। নির্দিষ্ট একটি ভাষায় সীমাবদ্ধ না থেকে অনেক গুলো ভাষায় গাওয়ার মাঝে শেখার অনেক বড় দরজা উন্মুক্ত হয়। এতে করে শ্রোতাদের আরো বেশি কাছে যাওয়া যায়।’তিনি বলেন, যখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে গান করি সবাই মনে করেন আমি ভারতীয়। ওখানে হিন্দী, তামিল, ইংরেজি ও বাংলা এই চার ভাষার গানের অনুরোধ আসে। একাধিক ভাষা না জানা থাকলে কিন্তু আমার তখন বিপদে পড়তে হতো।’

ভারতের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের মঞ্চে গেয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে এসেছেন এই শিল্পী। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রæয়ারি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ব্যাঙ্কসটাউনের পল কিটিং মাঠে ‘ভালোবাসা’র বাংলাদেশ’ মেলায় গেয়েও প্রশংসা কুড়িছেন।

বর্তমানে তিনি ব্যস্ত একটি বিশেষ অ্যালবামের কাজ নিয়ে। প্রকাশ হবে সেপ্টেম্বরে লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে। প্রখ্যাত এই শিল্পীর জনপ্রিয় ১০টি গান রাখা হবে এই অ্যালবামে। কৃতি বলেন, ‘শুরুতেই বলেছি লতা জির প্রতি আমার দুর্বলতার কথা। সেপ্টেম্বরে প্রিয় এই মানুষটির জন্মদিন। তাই তাকে উৎসর্গ করে তার গাওয়া জনপ্রিয় ১০টি গান নিয়ে কাজ করছি। এর ফলে শ্রোতারা অনেক উপকৃত হবেন।’

চলতি বছরের শুরুতে সিএমভি থেকে প্রকাশ হয়ে তার প্রথম মৌলিক গান ‘কল্পনার রং’। এখন কাজ করছেন আরো ৩-৪টি মৌলিক গান নিয়ে। কৃতি বলেন, সুদ্ধ গানের চর্চা করে শ্রোতাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই অনেক দিন। এ জন্য এখন থেকে অন্যদের গাওয়া গানের পাশাপাশি নিজের মৌলিক গানও প্রকাশ করবো নিয়মিত ভাবে।