স্পোর্টস ডেস্ক: কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম উরুগুয়ে ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর একটি গোল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। খালি চোখে দেখা যায় রোলনদোর হেডে বলটি জালে জড়ায়, রিপ্লেতে দেখে ধোঁয়াশা তৈরী হয় যে গোলটি ব্রুনো ফের্নান্দেসের না ক্রিশ্চিয়ানো রোলানদোর। পরে বলের নির্মাতারা সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্যতে জানিয়ে দিয়েছেন, রোলানদোর সঙ্গে বলের কোনও স্পর্শই হয়নি। ফলে সেই গোল দেওয়া হয় ব্রুনো ফের্নান্দেসকে। ঠিক পড়েছেন বলের সেন্সরে মাধ্যমই এই নিখঁত সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।
এবারের কাতার বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে ‘আল রিহলা’ বল দিয়ে। অ্যাডিডাস এবারের বল তৈরি করেছে। ওই বলেরই সাম্প্রতিক একটি ছবি অবাক করেছে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের। দেখা গিয়েছে, বলের একটা অংশ খুলে চার্জ দেয়া হচ্ছে। ঠিক মোবাইল, ল্যাপটপের মতোই।
আর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, পাশাপাশি চারটি বল রাখা। প্রতিটিতেই চার্জ দেয়া হচ্ছে। কেন এ বারের বলে চার্জ দিতে হচ্ছে? বিষয়টি খোলসা করেছেন বলের নির্মাতারা। কাতার বিশ্বকাপের বল বাকি সবগুলোর থেকে আলাদা। বলের ভেতরে সেন্সর বসানো রয়েছে। ম্যাচের সময় সেগুলো প্রতি মুহূর্তে তথ্য পাঠাচ্ছে সার্ভারে। সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য পাঠানো হচ্ছে। প্রতি বার বলের সঙ্গে কোনো কিছু স্পর্শ হলে নির্ভুল তথ্য চলে যাচ্ছে সার্ভারে। সেই সেন্সরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি ব্যাটারি, যার ওজন ১৪ গ্রাম। সেই ব্যাটারিকেই ম্যাচের আগে চার্জ দিতে হচ্ছে। এক বার চার্জ দিলে ছ’ঘণ্টা ব্যাটারির আয়ু থাকে। নির্ভুল তথ্য পেতে প্রতি ম্যাচের আগে বল চার্জ দেয়া জরুরি।
রোলানদোর দাবি করা সেই গোল সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বল প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, “আমাদের যে প্রযুক্তি রয়েছে তা বলছে, রোলানদোর কোনও স্পর্শ ওই সময় বলে লাগেনি। বল গোলের দিকে যাওয়ার সময় যে স্পন্দন আমরা দেখেছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে কোনও রকম ছোঁয়া লাগেনি। এ বারের বিশ্বকাপে আল রিহলা নামে যে বল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটার মধ্যে সেন্সর লাগানো আছে। সেটার সাহায্যেই আমরা বলতে পারি যে, বল রোলানদোর মাথায় লাগেনি।”
আমাদের কাগজ//টিএ





















