খেলাধুলা ২৫ জুলাই, ২০১৯ ১১:২৭

জয় দিয়ে দারুন প্রস্তুতি টাইগারদের

জয় দিয়ে দারুন প্রস্তুতি টাইগারদের

বিশ্বকাপ মাতানো সাকিব আল হাসান নেই। তার অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর পজিশনটা নিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। মঙ্গলবার মোহাম্মদ মিঠুন সেই দুশ্চিন্তা বুঝি পুরোপুরিই দূর করে দিলেন। বিশ্বকাপের মাঝপথে একাদশে জায়গা হারানো এই ব্যাটসম্যান এদিন আলো ছড়িয়েছেন ব্যাট হাতে। শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন ৫ উইকেটের দারুণ এক জয়।

 

বিশ্বকাপের পর এদিনই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। মাঠে নেমেছিল শুক্রবার থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে। ৫ উইকেটের জয়টা বলে দিচ্ছে সেই প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। ছোটখাটো ভুলগুলো বাদ দিলে ব্যাটিং আর বোলিং দুই বিভাগেই পারফরম্যান্স ছিল মোটামুটি প্রত্যাশা মেটানো। রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকারদের দুর্দান্ত বোলিং সামলেও স্বাগতিক দলটি ২৮২ রান তুলেছে, সেটা মূলত তাইজুল ইসলাম-ফরহাদ রেজা আর তাসকিন আহমেদ নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায়।

 

এরই মধ্যে আশার খবর হচ্ছে, ম্যাচে ৩ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। উইকেটশূন্য ছিলেন অপর তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম আর মোসাদ্দেক হোসেন। ম্যাচে ৯ বোলার ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সাফল্য এসেছে যাদের হাত ধরে তারা সবাই পেসার। রুবেলের হাত ধরে কলম্বোয় এদিন বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। বিশ্বকাপে নতুন বলে উইকেট না পাওয়া যথেষ্ট ভুগিয়েছে টাইগারদের। এদিন রুবেল আর তাসকিন উইকেট এনে দিয়েছেন শুরুতেই।

 

ম্যাচের তৃতীয় বলেই লঙ্কান বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের অধিনায়ক নিরোশান ডিকওয়েলাকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন রুবেল। এরপর রানের জন্য হাপিত্যেষ করে মরা বিশ্ব ফার্নান্দোকেও নিজের শিকার বানিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। আরেক ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা (২৬) খেলছিলেন দারুণ। তাকে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে স্বাগতিক দলটির স্কোর ৩ উইকেটে ৩২ বানিয়ে দেন তাসকিন। চতুর্থ উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন ভানুকা রাজাপাকশে আর শিহান জয়াসুরিয়া। ৩২ রান করা রাজাপাকশেকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সৌম্য।

 

পার্টটাইমার সৌম্য পরে থামিয়েছেন ৬টি চারে ৫৬ রান করা জয়াসুরিয়াকেও। তবে সাতে নামা দাসুন শানাকাকে কেউ থামাতে পারেননি। বিস্ফোরক এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন এই লঙ্কান। সমান ৬টি চার আর ছক্কায় ৬৩ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২৮ রান করেছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। মূলত তাদের ব্যাটে চেপেই ২৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়তে সমর্থ হয় লঙ্কান বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ। ২৯ রানে ২ উইকেট নেওয়া সৌম্যই ছিলেন এদিন বাংলাদেশের সবথেকে সফল বোলার। ৩১ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন রুবেল। একটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন, মোস্তাফিজ আর ফরহাদ।

 

সবকিছু মিলিয়ে বোলিংটা হয়তো আরও খানিকটা ভালো হতে পারত। তবে দলের ব্যাটিংটা ছিল দারুণ। মিঠুন ছিলেন দুর্দান্ত। ৯১ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন এই ডানহাতি। ওই ইনিংসে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিন নম্বরে খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন। মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহ আর সাব্বির রহমান খেলেছেন সময়ের দাবি মিটিয়ে। তবে অধিনায়ক তামিম এদিনও ভালো শুরুটা কাজে লাগাতে পারেননি। ৩৭ রান করে আউট হয়েছেন। হাসেনি সৌম্যর ব্যাটও। ১৩ রান করা এই বাঁহাতির বিদায়েই ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর তামিমের বিদায়, বাংলাদেশের স্কোর ৫৮/২।

 

মিঠুন-মুশফিক জুটির ৭৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ, সুগম করে জয়ের পথ। ৪৬ বলে ৫০ রান করে থামেন মুশফিক। ১০০ বলে ৯১ রান করে মিঠুন যখন থামেন, জয় থেকে বাংলাদেশ তখন মোটে ২১ রান দূরে। সাব্বির আর মোসাদ্দেক অনায়াসেই সেই দূরত্বটা ঘুচিয়েছেন।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ : ৫০ ওভারে ২৮২/৮ (ডিকওয়েলা ০, গুনাথিলাকা ২৬, ওশাদা ২, রাজাপাকসে ৩২, জয়াসুরিয়া ৫৬, অ্যাঞ্জেলো ৭, শানাকা ৮৬*, হাসারাঙ্গা ২৮, ধনঞ্জয়া ৯, আপনসো ১৩*; রুবেল ২/৩১, তাসকিন ১/৫৭, মোস্তাফিজ ১/২৯, সৌম্য ২/২৯, ফরহাদ ১/২২)

 

বাংলাদেশ : ৪৮.১ ওভারে ২৮৫/৫ (তামিম ৩৭, সৌম্য ১৩, মিঠুন ৯১, মুশফিক ৫০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সাব্বির ৩১*, মোসাদ্দেক ১৫*; রাজিথা ১/৫৭, কুমারা ২/২৬, ধনঞ্জয়া ১/৪৭, হাসারাঙ্গা ১/৩৯)
ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী