খেলাধুলা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৫:৫১

দুইশর আগেই অলআউট বাংলাদেশ!

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ অভিযানে রওনা দেওয়ার আগে আবারও ফুটে উঠলো বাংলাদেশের ব্যাটিং দৈন্যতা। নিজের মাটিতে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে দুইশ রানের সংগ্রহও গড়তে পারল না টাইগাররা। নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের সামনে ৩৫ ওভারের আগেই গুটিয়ে গেছে নামজুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে কিউইদের স্রেফ ১৭২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিকরা। দলটি ৩ রানে হারায় শেষ ৪ উইকেট।

ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন শান্ত। করেছেন সর্বোচ্চ ৭৬ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান মাহমুদউল্লাহর।

অ্যাডাম মিলনে নিয়েছেন ৪ উইকেট। দুটি করে নেন ট্রেন্ট বোল্ড ও  কোল ম্যাকনকি। দ্বিতীয় ম্যাচে একাই ৬ উইকেট নেওয়া ইশ সোদি এদিন ৬ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ৩৪.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।


ইনিংসে ফিফটি জুটি কেবল একটি। ৩৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৫৯ বলে ৫৩ রান যোগ করেন শান্ত। পানি পানের বিরতি থেকে ফিরেই নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ফর্গুসনে আঘাত। ফর্গুসনের লাফিয়ে ওঠা বল ব্যাটে লেগে স্টাম্পের উপর পড়ে। চেষ্টা করেও বল আটকাতে পারেননি মুশফিক। আউট হন ২৫ বলে ২ ছক্কায় ১৮ রান করে।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রানের জুটিতে মাহমুদউল্লাহকে পেয়েছিলেন শান্ত। বোলিংয়ে ফিরেই উইকেট তুলে নেন মিলনে। কট বিহাইন্ড হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। দলকে একাই টানছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে সঙ্গ দিতে  পারেননি মেহেদি হাসানও। বোল্টের বলে কট বিহাইন্ড হন মেহেদী। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হন ওয়ানডাউনে নামা শান্ত। ম্যাকনকির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে হন অধিনায়ক। এর আগে ৮৪ বলে ১০ চারে করেন ৭৬ রান।

ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ঠিক দুই-এক মিনিট আগে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হলে ঢেকে দেওয়া হয় পিচ। ২০ মিনিট পর শুরু হয় খেলা। নতুন বলে প্রথম আঘাত হানেন মিলনে। অভিষিক্ত জাকির হোসেনকে দ্বিতীয় ওভারেই ইনসাইড এজ বোল্ড করে দেন সিরিজে প্রথম সুযোগ পাওয়া এই পেসার।

পরের ওভারের প্রথম বলে তানজিদ হাসানকে স্লিপে ক্যাচ বানান বোল্ট। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশে বোল্টের প্রথম উইকেট এটি। শুরুর এই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই আবারও মিলনের আঘাত। ডাউন দা উইকেটে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তাওহিদ হৃদয়।

সিরিজের প্রথম ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে, দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ হারে বড় ব্যবধানে। সবশেষ ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো কিউইরা। এরপর ২০১০ সালে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এবং ২০১৩ সালে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় ব্ল্যাক ক্যাপ বাহিনী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ৩৪.৩ ওভারে ১৭১ (তানজিদ ৫, জাকির ১, শান্ত ৭৬, হৃদয় ১৮, মুশফিক ১৮, মাহমুদউল্লাহ ২১, মেহেদি ১৩, নাসুম ৭, হাসান ১, শরিফুল ১, খালেদ ০*; অতিরিক্ত ১০; বোল্ট ৬-০-৩৩-২, মিলনে ৬.৩-০-৩৪-৪, সোদি ৬-০-৪০-০, ফার্গুসন ৬-০-২৬-১, রবিন্দ্র ৫-১-২০-১, ম্যাকনকি ৫-০-১৮-২)।

আমাদেরকাগজ / এইচকে