ডেস্ক রিপোর্ট
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। প্রথম দেখায় মনে হবে ময়লা ফেলার স্থান। চরম নোংরা রক্তাক্ত বেডেই হয় অস্ত্রোপচার! এমন চিত্রই দেখা গেছে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার রুমে। বুধবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীর তিনটি হাসপাতালে র্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে বেরিয়ে আসে এসব অনিয়ম।
রাতে চালানো এই অভিযানে হাসপাতালের মালিক ও পরিচালকসহ মোট ছয়জনকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাসপাতালগুলো হচ্ছে- ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, মক্কা-মদিনা হাসপাতাল ও নুরজাহান অর্থপেডিক্স হাসপাতাল।
পাঁচ ঘণ্টার অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু সাংবাদিকদের বলেন, ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজি মোহাম্মদ আবুল হোসেন (৫০)। লেখাপড়া করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। তিনি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসাসেবা দিলেও তাঁর কাছে রোগী আসেন না। বরং তিনি দালাল নিয়োগ করেছেন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনার জন্য। রোগীদের ভাঙা হাত-পায়ের এক্স-রে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই দেন। এছাড়া ক্রিসেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে আরো চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মোহাম্মদপুর থানাধীন বাবর রোডে হাসপাতালে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে এসে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তারা রোগী আনার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া।
পলাশ কুমার বসু বলেন, অভিযানের শুরুতেই মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পরিচালক ও মালিক নূর নবীর কোনো ধরনের চিকিৎসা প্রদানের সনদ বা অনুমোদন নেই। তিনি তাঁর রুমে বসে রোগী দেখছেন এবং তাদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। হাত ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন তাদেরকে অপারেশন করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। যা তিনি কোনোভাবেই দিতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, এমন অপচিকিৎসা মানুষের অর্থ ও জীবনের জন্য খুবই বিপজ্জনক। সেজন্য জনস্বার্থে দুটি হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। সিলগালা করে টোটাল রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আছেন, তাঁর মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হবে। যাতে করে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।'
এ অপরাধে মক্কা-মদিনা হাসপাতালের পরিচালক নূর নবীকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ আনোয়ার হোসেন কালু ও তাঁর সহযোগী আবদুর রশিদকে ছয় মাস করে সাজা দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সেই সঙ্গে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।






















