নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাটে কোরআন অবমাননার গুজব রটিয়ে গণপিটুনি দিয়ে শহীদুন্নবী জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তার মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী শ্রমিক লীগ নেতা আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটরকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার সকালে আলোচিত এ ঘটনায় করা তিন মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটরকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা।
এ ঘটনায় সোমবার (৯ নভেম্বর) পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে আলোচিত তিন মামলায় মোট গ্রেফতার হলেন ৩১ জন। এ মামলায় এর আগে নয় জনকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যার মধ্যে খাদেমসহ তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মসজিদের খাদেম জোবেদ আলী কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বলে বাংলানিউজকে জানান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী।
রিমান্ডের আবেদনপ্রাপ্ত আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটর পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার মৃত হাবু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি।
নতুন গ্রেফতাররা হলেন- পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা গুড়িয়াটারী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৯) ও একই এলাকার ইসলামপুর মোস্তরহাট এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে সুজন মিয়া (২১)।
কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার অভিযোগে নিহতের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পাটগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী বাদী হয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের অভিযোগে অপর একটি মামলা করেন বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত। বহুল আলোচিত তিনটি মামলায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।






















