নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতারণায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতাশাওন আহমেদ প্রিন্সের। কখনো এমপি, রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি আবার কখনো পুলিশের সাবেক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। রাজধানীর উত্তরা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটকের পর স্বীকার করেন প্রতারক শাওন আহমেদ প্রিন্স।
প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত তিনি। অপারেশন সফল হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে করেন বিয়ার পার্টি। টাকা পয়সা যেন তার হাতের ময়লা। গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়েন্দাদের জালে রাজধানীর উত্তরা থেকে ধরা পড়ে নড়াইলের এই প্রতারক।
নিজেই স্বীকার করেন, চাকরি দেয়ার নাম করে কয়েক কোটি টাকা কামানোর কথা। এ জন্য ব্যবহার করতেন এমপি, রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পুলিশের সাবেক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার নাম-পরিচয়। এমনকি বানিয়েছেন সরকারের সবোর্চ্চ ব্যক্তির বিশেষ রাজনৈতিক উপদেষ্টার কার্ড।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, এইচ টি ইমামের স্যারের পরিচয় দিয়ে আমার শালা ও ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার নাম বলে সে ৭ লাখ টাকা ৪০ হাজার নিয়ে গেছে।
প্রতারক শাওন আহমেদ প্রিন্স বলেন, এমপি সাহেবের সুপারিশে কাজ হয়; এ রকম কথা বলে টাকা নিয়েছি। তবে, বিভিন্ন মানুষের টাকা নিয়ে আমার কাছে কোটি টাকা রয়েছে। শুধু চাকরি নয়, বিনা সুদে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার নাম করেও হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে একটা ঋণ ছাড়া হয়েছে। সেটা নিয়ে দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে।
ধরা পড়ার পর তাকে নিয়ে প্রতারণার টাকা উদ্ধারে উত্তরার একটি বাসায় অভিযানে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। তার দাবি সম্পর্কে চাচীর কাছে রেখেছেন ৪৯ লাখ টাকা। যদিও টাকা রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছে চাচা-চাচী। চাচি জানান, সে বললে কি হবে? এর জন্য সই স্বাক্ষর লাগবে না। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, সচেতন না হলে এমন প্রতারণা বন্ধ হবে না।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউল রহমান বলেন, টাকা দিয়ে এখন চাকরি হবে না। টাকার বিনিময়ে লোনও হবে না। এজন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে।
এই প্রতারকের বিরুদ্ধে ১৩ জন এরই মধ্যে অভিযোগ দিয়েছেন। প্রতারণায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানিয়েছে ডিবি।






















