অপরাধ ও দুর্নীতি ২ নভেম্বর, ২০২২ ১১:১৩

কক্সবাজারে কোটিপতি রোহিঙ্গা যুবক


নিজেস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমানের মালিকানাধীন ৫টি গাড়িতে পুলিশের লোগো ও স্টিকার লাগানো রয়েছে। আর এ গাড়িগুলো মাদকসেবন, বিক্রি, নারীদের নিয়ে জলসা, প্রতারণা, টার্গেট করে রাস্তা থেকে যানবাহন ধরে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গা মনসুর। তিনি একটেড সিস্টার অর্গানাইজেশন রিচ নামের এনজিওতে ফ্লিড অফিসার হিসাবে কাজ করেন। এই রোহিঙ্গা যুবকের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে  অপরাধী সিন্ডিকেটও।
তিনি একটেড সিস্টার অর্গানাইজেশন রিচ নামের এনজিওতে ফ্লিড অফিসার হিসাবে কাজ করেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গাড়ি থেকে স্টিকার ও পুলিশের লোগো তুলে ফেলেছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পুলিশ পরিদর্শকের গাড়ি ব্যবহারে জায়গায়-জায়গায় পুলিশ পরিদর্শকের হস্তক্ষেপ থাকায় উখিয়া-টেকনাফ থেকে ওই এনজিওকর্মী চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে যাতায়াত করছেন কক্সবাজার শহরসহ চট্টগ্রামেও।


অভিযোগ উঠেছে, এসব গাড়িতে ইয়াবা পাচারসহ নানা অপকর্ম করে যা”েছ এ সিন্ডিকেট। এদিকে আব্দুছ সালামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর আমিন প্রতিবাদ নিয়ে তোড়জোড় শুরু করলেও অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

সূত্রমতে, কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমানের মালিকানাধীন ৫টি গাড়িতে পুলিশের লোগো ও স্টিকার লাগানো রয়েছে। আর এ গাড়িগুলো মাদকসেবন, বিক্রি, নারীদের নিয়ে জলসা, প্রতারণা, টার্গেট করে রাস্তা থেকে যানবাহন ধরে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গা মনসুর বর্তমানে এনজিওর চাকরি ও পুলিশের গাড়ির ছোঁয়ায় রমরমা অপকর্ম করে কোটি টাকার মালিক বনে


এবিষয় টিআই আমিনুর জানান, তার একটি মোটরসাইকেল, একটি নোয়া, একটি পাজেরো, একটি ল্যান্ডক্রুজার ও জিপ। গাড়িগুলো তিনি ব্যবহার ও বিক্রির জন্য কিনেছেন। সরকারি মোটরসাইকেল নিয়ে বেশির ভাগ ডিউটি করতে হয় বলে নিজের গাড়িগুলা পড়ে রয়েছে। এছাড়া গাড়ি বেশিদিন পড়ে থাকলে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনসুরসহ অন্যদের চালাতে দিয়েছেন। যদি তারা এ গাড়ি ও পুলিশের নাম কিংবা আমার নাম ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো অপকর্ম করে তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবেন। তবে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তিনি ৫টির কথা স্বীকার করলেও তার আরও একটি করে মোটরসাইকেল ও ল্যান্ডক্রুজার রয়েছে।

মনসুর জানান, তার দুটি প্রাইভেট কার ও ১টি জিপ রয়েছে। তবে প্রাইভেট কার দুটির একটি টেকনাফ হ্নীলা এলাকার তার শ্যালকের। মনসুর বলেন, টিআই আমিনের সঙ্গে আমার গাড়ি আটকের ঘটনা নিয়ে সম্পর্ক হয়েছিল। তার ৫-৬টি পড়ে থাকা গাড়ি নানা কাজেকর্মে অনুমতি নিয়ে চালাতাম। নিউজ হওয়ার পর তার গাড়ি তাকে ফেরত দিয়েছি। 
অন্যদিকে মনসুর দাবি করেন, নিউজ প্রকাশের পরে মনসুরকে দায়ী  করছেন টিআই আমিন সব দোষ নাকি এই রোহিঙ্গার । তিনি আরও বলেন, আমি রোহিঙ্গা নই। আমার বাড়ি প্রথমে ছিল টেকনাফ, পরে শহরের বাদশাঘোনা, তারপর পিটিস্কুল, বর্তমানে উপজেলার হাজীপাড়ায়। আমার বাপ-দাদা ও মাসহ সবাই বিদেশ থাকার কারণে কেউ ভোটার হতে পারেননি।  কিš‘ বর্তমানে এনজিওর চাকরি ও পুলিশের গাড়ির ছোঁয়ায় রমরমা অপকর্ম করে কোটি টাকার মালিক বনে

খবর নিয়ে জানাযায়, মনসুরের বাপ-দাদার বাড়ি মিয়ানমারের বুচিদং। তার বাবার নাম জাফর আমির হোসেন। মায়ের নাম দলু বিবি। দীর্ঘদিন আগে অবৈধভাবে এ দেশে ঢুকে টেকনাফের নতুন প্লানপাড়ায় আশ্রয় নেন। পরে কৌশলে এ দেশের নাগরিক পরিচয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সপরিবারে দুবাইতে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে মনসুর মাদক সেবন করে কলেজছাত্রী অপহরণের ঘটনায় সাজা খেটে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে ফেরেন। একইভাবে মাদকসেবনের দায়ে মনসুরের ছোট ভাই ওমরও সাজা খেটে ফিরে আসেন। গেছেন। মালিক হয়েছেন বহুতল বাড়িরও। পাশাপাশি নিজে যেমন গাড়ির মালিক হয়েছেন, তেমনি ট্রাফিক ইন্সপেক্টরকেও করেছেন ৬-৭টি গাড়ির মালিক। 


এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, টিআই আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরগুলো দেখেছি। তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের কাগজ/ ই আ