ডেস্ক রিপোর্ট ।।
সম্প্রতি ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে দুই তিন জন যুবক। কিন্তু আশেপাশে থাকা কেউ সাহস পাচ্ছে না তাদের কিছু বলার। এমনকি পুলিশের হাতে ভিডিওটি যাওয়ার পরও নিউজ লেখার সময় পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
ভিডিওতে যাদের অস্ত্র হাতে দেখা যাচ্ছে তারা সবাই 'মামা বাহিনী'র সদস্য। মূলত কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হলেও গোটা নোয়াখালী জুড়েই রয়েছে তাদের রাজত্ব। নিজের ক্ষমতা জোরদার করার জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ করেছে এই বাহিনীর সদস্যরা।
নাম না প্রকাশের শর্তে একজন স্থানীয় জানান, নোয়াখালীতে অরাজনৈতিক সাইনবোর্ডের আড়ালে দিন দিন ভয়ংকর,হিংস্র হয়ে উঠেছে মামা বাহিনীর সদস্যরা। ছিনতাই, চাঁদাবাজি,খুন,অপহরন,অপহরন ও ধর্ষণের মত অপরাধ সংগঠিত করছে প্রতিদিনই। এছাড়াও তারা চালাচ্ছে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট। যার ফলে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে যাচ্ছে তরুণ সমাজ।
ভিডিও সূত্রে আরো জানা যায়, মামা বাহিনীর প্রধান এক সময়ে শহর বিএনপির সদস্য ও জামায়াতের পৃষ্টপোষক ঠিকাদার জাবেদ মিয়া। সরকারের পালাবদলের পর বেশ কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও ২০১৫ সালের পর থেকে জেলার এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। আর বর্তমানে তার ছত্রছায়ায় গোটা নোয়াখালীতে চলছে নানা অপরাধ। এছাড়া তার কথা ছাড়া কোন ঠিকাদারই কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহন করতে পারে না। যারা তাকে উন্নয়ন কাজের উপর ৮-১০% নগদ কমিশন দিচ্ছে তারাই শুধুমাত্র কাজে অংশগ্রহন করতে পারছে। এর বাইরে কোন ঠিকাদার অংশগ্রহন করতে চাইলে বা চেষ্টা করলে মামা তার নিজস্ব মামা বাহিনী দিয়ে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গিয়ে চালায় মানষিক এবং শারিরিক নির্যাতন।
এবিষয়ে একাধিক ঠিকাদারের সাথে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলে আমরা অনেকেই বর্তমানে শুধুমাত্র মামা বাহিনীর অত্যাচারের কাজ কর্ম ছেড়ে দিয়েছি। গোটা জেলা জুড়ে এখন তাদের রাজত্ব চলছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে গেলেই সব কিছু হারাতে হচ্ছে। এমনি কি প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে অনেককে।
এছাড়াও স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে আরো জানা যায়, এদের মুল কাজ হচ্ছে কোন বাক্তি নতুন বাড়ির কাজ করতে গেলে তারা তাদের সক্রিয় সদস্যদের পাঠিয়ে প্রথমে পুরো কাজ চাইবে আর কাজ দিতে রাজি না হলে শুরু করা কাজ বন্ধ করে দিবে। পরে এই বাহিনীর প্রধান মামা নিজেই কথা বলে হয়তো কাজ নিয়ে নিবে নয়তো নগদ টাকার বিনিময়ে দফারফা করে দিবে। যা কয়েক লাখ টাকায় শেষ হয়। এছাড়া শহরের ফুটপাতের অবৈধ দোকান থেকে চাঁদা তোলা, অটো/সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলা এবং শহরের পুরো মাদক ব্যবসাই নিয়ন্ত্রণ করে মামা বাহিনী।
এছাড়া স্থানীয় সূত্র থেকে আরো জানা যায়, মূলত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি ব্যবসাসহ একাধিক অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ২০১৫ সাল থেকে।
আর এই বাহিনীর মামার পরে সবচেয়ে আতঙ্কের নাম টিউমার রকি। যাকে ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে। রকির পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়, তার পুরো নাম ইয়াসিন আলম রকি। তার বাবা কানা বাদশা ডিবি পুলিশের সোর্স। একসময় এখানে ওখানে ভাড়া থাকতো কিন্তু বর্তমানে জজ কোর্টের পূর্ব পাশে তিনতলা বাড়ি করে থাকছেন তারা।
এক সময় বাসের হেলপারি করা রকি 'মামা বাহিনী'তে যোগদানের পরেই তার ও পরিবারের এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে একাধিক স্থানীয়।
মামা বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে সে হয়ে ওঠে বেপরোয়া। হাতে চলে আসে অত্যাধুনিক অস্ত্র। শুরু করে চাঁদাবাজি,অপহরন,অবৈধ দখলবাজি আর এসব করতে গিয়ে যতবারই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ততবারই মামা বাহিনীর মামা নিজে অথবা রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় ছাড়িয়ে নিয়েছে রকিকে। যার ফলে সে দিন দিন হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া। এক বছর পূর্বে মাষ্টারপাড়া মামার বাসার পাশের ভবনের ভাড়াটিয়া শাহিনুর আক্তার সান্তা নামে এক তরুণীকে প্রথমে ধর্ষণ এবং ধর্ষনের পর হত্যার অভিযোগও রয়েছে এই রকির বিরুদ্ধে। কিন্তু মামার হস্তক্ষেপে তার বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে পুলিশ সাধারন জিডি করে এবং পরবর্তিতে তা আত্বহত্যার মামলায় চলে যায়।
এই গ্রুপের ২/৩ জন সদস্য অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও মামার বদৌলতে তা সাধারন মাদক মামলায় চলে যায়। চলতি মাসের ১০ তারিখে এই গ্রুপের আরেক সদস্য শাওন এক দম্পতিকে অস্ত্রের মুখে অপহরন করে মুক্তিপণ দাবী করে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং হাতেনাতে শাওন ও তার আরেক সহযোগীকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। কিন্তু মামার সরাসরি লবিং এর মুখে শুধু অপহরন মামলায় চালান দেওয়া হয়।
এই মামা বাহিনীর ভয়ে শহরের ছোট/বড় কোন নেতাই মুখ খোলে না আর সাধারন জনগনতো সর্বদা আতংকে থাকেন। তাদের প্রকাশ্যে দেশি/বিদেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেখেননি শহরের এমন লোক কমই আছেন। গত একমাস আগে মাইজদী কোর্টে রেল স্টেশানের মধ্যেই দিনে দুপুরে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'জনকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার সময় এই গ্রুপের সদস্যদের সাথে অপহৃত হওয়া বাক্তিদের ধস্তাধস্তি হয়। এর এক পর্যায়ে এই গ্রুপের মুল টিউমার রকি প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে। যা রেল স্টেশনের ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে। তবুও এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি থানায়।
ভিডিও- ১ :
ভিডিও- ২ :






















