ডেস্ক রিপোর্ট।।
একটি দুটি নয় সংখ্যায় অন্তত পাঁচ হাজার। আর তা লাগানো হয়েছে কোন ধরণের অনুমোদন ছাড়াই। এমনকি তার বিপরীতে সরকারী খাতে জমা পড়েনি সিকি পয়সাও। বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের সংযোগ নিয়ে এমন জালিয়াতিই হয়েছে চট্টগ্রামে। চীন থেকে প্রতিটি মিটার কেনায় খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকার বেশি, সেখানে কোন টাকা জমা না দিয়ে সুবিধাভোগীরা হাতিয়ে নিয়েছে তিন কোটি টাকারও বেশী।
নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১১শ ৩১ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয় আবেদনকারীকে। তারপর যাচাই বাছাই শেষে মিটার পাবেন গ্রাহক।
অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় লাগানো হয়েছে হাজার হাজার প্রিপেইড মিটার। এজন্য গ্রাহককে দিতে হয় পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা। কিন্তু ভূয়া ট্র্যাকিং নম্বরে লাগানোর কারণে এসব মিটারের বিপরীতে কোন টাকাই জমা হয়নি সরকারি কোষাগারে।
একটি বেসরকারি চ্যানেলের অনুসন্ধানে পিডিবির আগ্রাবাদ জোনের এমন প্রায় ৫০০ সংযোগের তথ্য মিলেছে। অনুসন্ধান বলছে, এমন অন্তত ৫ হাজার মিটার লাগানো হয়েছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব মিটার লাগালে প্রতিটিতে ১২শ৫০ টাকা হিসাবে সরকার রাজস্ব পেত অর্ধকোটি টাকার বেশী। অথচ এসব মিটার লাগানো বাবদ সুবিধাভোগী চক্র হাতিয়ে নিয়েছে তিন কোটি টাকারও বেশী।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বৈধ করার অংশ হিসেবে পিডিবির হিসাবে মিটারপ্রতি ৪৯৯ টাকা করে জমা দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে। অথচ ২০১৮ সালের আগের সংযোগের ক্ষেত্রে যা ১২শ' ৫০ টাকা এবং পরের সময়ের জন্য জমা হওয়ার কথা ১১শ' ৩১ টাকা।
এমন অনিয়মের বিষয়ে প্রথমে স্বীকার না করলেও তথ্য প্রমান দেখানোর পর একেক সময় একেকরকম জবাব দেন সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী।
পিডিবির আগ্রাবাদ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোর্শেদ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার সংযোগে অনিয়মের কোন আসেনি। তবে মিটার সংযোগে কোন ভুল হতে পারে বলে জানান পিডিবির আগ্রাবাদ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোর্শেদ মঞ্জুরুল ইসলাম।
চট্টগ্রামে পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে এতবড় অনিয়ম হলেও পিডিবির কারো বিরুদ্ধেই নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। উল্টো ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।






















