ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম কলেজের দুটি ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি ৭২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভোররাতে চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা ছাত্রাবাসে অভিযান চালানো হয় বলে নগর গোয়েন্দা পুলিশ এক সদস্য এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ছাত্রাবাস দু’টিতে অভিযান চালিয়ে ৭২ শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়।” অভিযান চলাকালে ছাত্রাবাসের পাশে চট্টগ্রাম কলেজের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় একটি গর্তে শিবিরের ব্যানারে মোড়ানো অবস্থায় একে-২২ রাইফেলসহ নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গত কাল সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজে অভিযান চালিয়ে ১টি একে ২২, ১টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ৩টি পিস্তল, ৩টি সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, ১টি দো-নলা বন্দুক, ৫টি রকেট ফ্লেয়ার, ৬১ রাউন্ড কার্তুজ ও ২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম কলেজে অভিযান শেষে সামনের মহসিন কলেজে যায় পুলিশ। ওই কলেজের মহসিন মুসলিম ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালিয়ে নাশকতায় জড়িত কাউকে ধরতে না পারলেও পাশের একটি পাহাড়ি গুহা থেকে আট শিবির কর্মীকে আটকের কথা জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে পেট্রল, বিস্ফোরক দ্রব্য, হাতবোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিকে অভিযান চলাকালে গত কাল সকাল ১০টার দিকে মহসিন কলেজে যান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত বিভিন্ন নাশকতার ঘটনায় জড়িতরা চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে আশ্রয় নিতে পারে ধারণা থেকে এ অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, “একে-২২ রাইফেল সাধারণত সেনাবাহিনী ব্যবহার করে দিক নির্দেশনার জন্য। এগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এনে এখানে পুরো ক্যান্টনমেন্ট বানিয়ে রাখা হয়েছে।” এসব অস্ত্র সংগ্রহ ও সেগুলো রাখার সঙ্গে শিক্ষকরাও জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “কলেজের শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রাবাসে অস্ত্র মজুদ রাখার বিষয়টি শিক্ষকদের অজানা কিছু নয়। অস্ত্র মজুদের ঘটনায় শিক্ষকরাও জড়িত। শিক্ষকদের মদদ না থাকলে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কাজ করতে পারে না। এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। কলেজের শিক্ষক ও মদদদাতাদের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






















