নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজীব র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর তার অপরাধ জগত সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু রাজীবের। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তিনি । সে সময় দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন । এর পরেই শুরু হয় তাঁর অবৈধ কর্মকাণ্ডের কার্যক্রম।
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাতমসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
একসময় টং দোকানদার রাজীব বর্তমানে বসবাস করেন আলিশান বাড়িতে। গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে। যার মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কারও।
কাল রাতে রাজীবের গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশের পরে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি মানুষের মধ্যে দেখা যায় এক প্রকার চাপা আনন্দ। এসময় দীর্ঘদিন মোঃপুর তিন রাস্তার মোড়ে ব্যবসা করা এক ব্যসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আল্লাহ্ আমাদের দিকে মনে হয় এবার তাকালেন।
তাঁর এমন প্রশ্নের কারণে জানতে চাইলে তিনি আমাদের কাগজের সংবাদকর্মীকে জানান, রাজীব কমিশনার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন উৎসবের সময় খালি হলুদ খাম পাঠিয়ে সালামি আদায় করতেন।
এমন কি পরিমাণ সালামি দেওয়া লাগবে তাও বলে দেওয়া থাকতো। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে মার্কেট দোকান সব স্থানেই তাঁর এই খাম যেত।
কি পরিমাণ অর্থ দেওয়া লাগতো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই সালামির পরিমাণ শুরু হত ১ হাজার টাকা থেকে।
রাজীব গ্রেফতারের বিষয়ে র্যাবের সারোয়ার বিন কাশেম জানান, 'সি' ব্লকের আফতাব উদ্দিন রোডের ৯ তলা ভবনটির সপ্তম তলা থেকে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়। এটি তার বন্ধু মিশু হাসানের ভাড়া নেয়া বাসা। ওই বাসার ভেতরে রাজীবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদসহ বাসাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই বাসা থেকে বিদেশি মদের সাতটি বোতল, ৩৩ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট, একটি অবৈধ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি। এ ছাড়া তার বাসা থেকে ৫ কোটি টাকার চেকও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির বিভিন্ন কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। একই সময় আলামত ধ্বংস এবং কাজে অসহযোগিতার কারণে রাজীবের সহযোগী (পিও) সাদেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।






















