ডেস্ক রিপোর্ট ।।
গাজীপুরে ১২ বছর পূর্বে স্বামীর হাতে স্ত্রী ও সন্তান খুন মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে সি আই ডি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায় সি আই ডি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি 'আমাদের কাগজ' পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
গত ২৭/১০/২০১৯ খ্রিঃ রাত্র অনুমান ১০.১৫ ঘটিকার সময় জনাব, কানিজ ফাতেমা, বিশেষ পুলিশ সুপার, ঢাকা মেট্রো-পূর্ব এর নির্দেশে ও সার্বিক তত্বাবধানে মামলা তদন্তকারী অফিসার মোঃ নুর নবী, পুলিশ পরিদর্শক, মতিঝিল ইউনিট, ঢাকা মেট্রো-পূর্ব এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলা নং-০৭ তারিখ- ২৭/০৭/২০০৭ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ১১(ক) এর দীর্ঘ ১৩ (তের) বছর ধরে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারন করে পলাতক থাকা এজাহার গর্ভে উল্লেখিত আসামী মোঃ সোহেল ফকির (৩৭) পিতা- মোঃ আব্দুল মতিন ফকির, মাতা- মোসাঃ জরিনা বেগম, সাং- চর শ্রীরামপুর, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহকে এবং উক্ত আসামীর দেওয়া তথ্য মতে ২৮/১০/২০১৯ ইং তারিখ কালিয়াকৈর গাজীপুর থেকে তার সহযোগী আসামী (১) আনোয়ার হোসেন এবং (২) লিটন মিয়াদের গ্রেফতার করা হয়। আসামী সোহেল ফকির নিজের ঠিকানা গোপন করে ২০০৬ সালে অত্র মামলার বাদীর কন্যা গার্মেন্টস কর্মী মিসেস রত্না বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর রত্না বেগম একটি ছেলে সন্তান মোঃ নুরুজ্জামানের মা হন। কিন্তু আসামী সোহেল ফকির এই বিয়ের কথা গোপন করে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট নিবাসী কল্পনা আক্তার নামে অপর একজন গার্মেন্টস কর্মীকে গোপনে বিয়ে করে। কল্পনা আক্তারের আত্মীয়স্বজন আসামী সোহেল ফকিরের প্রথম বিয়ের কথা জানতে পেরে তারা সোহেল ফকির উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামী সোহেল ফকির তার ২য় স্ত্রীর মামা লিটন মিয়া এবং খালাতো ভাই আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গাজীপুর কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক - মির্জাপুর রেলরাইনের পাশে নিয়ে ভিকটিম রত্না বেগম (২০) কে শ্বাসরোধ করে এবং তার শিশু সন্তান নুরুজ্জামান (২ মাস ১৭ দিন) কে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতারকালে জানা যায় যে, পলাতক আসামী মোঃ সোহেল ফকির ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে নিজের পরিচয় গোপন করে কামরুল হাসান নাম পরিচয় দিয়ে চাকুরী করত।
ইতোপূর্বে ভিকটিম রত্না বেগম এর বাবা মোঃ আঃ লতিফ মোল্লা বাদী হয়ে রত্না বেগমের স্বামী সোহেল ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলা নং-০৭ তারিখ- ২৭/০৭/২০০৭ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ১১(ক) রুজু করা হয়। কিন্তু আসামীর স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী কোন ঠিকানা উদঘাটিত করতে না পারায় রেলওয়ে পুলিশ আলোচ্য মামলাটির চুড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং ১৫ তারিখ ১৮/৯/২০০৭ দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের না-রাজীর প্রেক্ষিতে মামলাটি সিআইডিতে আসে। বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ঢাকা মহোদয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে জানুয়ারী /২০১৯ থেকে সি আই ডি মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, খুনীদের সনাক্তকরন এবং গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা চালায়।
আসামী সোহেল ফকির তার সহযোগী (১) আনোয়ার হোসেন এবং (২) লিটন মিয়াদের সাথে নিয়ে এই জোড়া খুন সংঘঠিত করেছে মর্মে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






















