অর্থ ও বাণিজ্য ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:৪৯

অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয়, ৯শকোটি টাকার ওপরে কর দিয়ে বৈধ করেছেন হাজার ৪৪৫ জন করদাতা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।

মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সাবেক চেয়ারম্যান . মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, কালো টাকাকে কর দেয়ার সময়অপ্রদর্শিত অর্থউল্লেখ করা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দুর্নীতি করে উপার্জিত অর্থের উৎস কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

চলতি বছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় সম্পর্কিত আইনে পরিবর্তন আসায় করদাতারা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে উৎসাহিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কালো টাকা সাদা করার নৈতিকতা এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। আবার করোনা মহামারির কারণে সরকারের ব্যয় বাড়ায় বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনও।

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ হওয়ায় দেশের অর্থনীতির লাভ হচ্ছে না ক্ষতি, নিয়ে নানা তথ্য উঠে আসে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ-এর ভার্চুয়াল সংলাপ – ‘কালো টাকা সাদা হচ্ছে: অর্থনীতির লাভ, না ক্ষতি?’

সিপিডি চেয়ারম্যান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান বিশেষ কর সুবিধার সুফল নিয়ে বলেন, ধরণের সুবিধা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। তিনি বিশেষ কর সুবিধা সত্যিই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কিনা, এই বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে গবেষণা করার পরামর্শ দেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বর্তমান কালো টাকা সাদা করার সুযোগের থেকে সৎভাবে কর দেয়া বেশি ব্যয়বহুল। এই সুযোগের কারণে মানুষ সৎভাবে কর দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দেন মাল্টিমোড গ্রুপ-এর পরিচালক তাবিথ আউয়াল। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহবায়ক সিপিডি সম্মানীয় ফেলো . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সীমিত পরিসরে স্বল্প সময়ের জন্য এই সুযোগ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে এটি ক্ষতিকর।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শফিউল ইসলাম, এমপি, নাগরিক প্লাটফর্মের সদস্যদের পক্ষ থেকে . ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টি আই বি এবং সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, রাজস্ব কর বিশেষজ্ঞ, বাবসায়ী প্রতিনিধি এবং অর্থনীতিবিদ অংশ নেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।