আমাদের কাগজ রিপোর্ট: নানা অজুহাতে আকাশচুম্বী চিনির বাজার। আবারও বেড়েছে চিনির দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি চিনির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। তবুও বাজার ঘুরে মিলছে না চিনি, দেখা দিচ্ছে চিনি্র সংকট। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিত্য প্রয়োজনীয় চিনি কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি দাম। বাজারে বাড়তি দাম থাকায় একপর্যায় বেশি দামই নিতে হচ্ছে চিনি।
তবুও কেন সংকট— এমন প্রশ্নের উত্তর নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাড়তি দামেও সংকটের কারণ হলো আবারও দাম বাড়ানোর একটা প্রয়াস মাত্র। ‘যেখানে কিনা ব্যবসায় মন্দার কোন ব্যাপারই নেই বলে আক্ষেপ জানান বেশ কিছু ক্রেতা’। আজ শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার রায়ের বাজার সহ একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এসময় এই এলাকার অনেক দোকানে খোঁজ নিয়ে খোলা চিনি পাওয়া যায়নি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ক্রেতারা বেশি দামে খোলা চিনি কিনতে চাইছেন না। কী বলছেন ব্যবসায়ীরা ধানমন্ডি এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী রিদয় মাহামুদ বলেন, ‘ আমরা কেজিতে ১২০ টাকা দরে চিনি বিক্রি করছি। বেশি দাম কিনে আনলে আমাদেরও একটু বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। কি করব, মার্কেটেও পর্যাপ্ত নেই। বিক্রি করতে হলে বেশি দামেই কিনে আনতে হবে। অন্যথায় বিক্রি করা বন্ধ করে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোম্পানিকে আজও ফোন দিয়েছি, তারা বলতে পারছে না কবে চিনির দাম কমে আসবে। আমাদের কেনা দাম ১১০ টাকারও বেশি।’ ওই এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কবির বলেন, ‘এক মাস আগেও আমরা ৯০ টাকা করে চিনি বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করছি ১১৫ টাকায়। কেজিপ্রতি ২৫ টাকা বেড়েছে।’ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তার জবাব, ‘আমরা কিছু বলতে পারি না।’ চিনি সংকট ও ক্রেতাদের অভিযোগ শুনতে শুনতে কিছুদিন চিনি বিক্রি বন্ধই রেখেছিলাম।
বাড়তি দামেও কেন বাজারে চিনির সংকট এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাজার মুখি মানুষের সাথে সাথে আমাদেরও চিনি কিনে খেতে হয়। চিনির উৎপাদন ঘারতি ও আরেকটি কারণ হতে পারে, বেশি লাভের আশায় বড় বড় কোম্পানিগুলো হয়ত বাজারে চিনি ছাড়ছে না। তারা হয়ত মজুত করছে। এছাড়া তো হঠাৎ সংকট হওয়ার আর কোনো কারণ দেখছি না।’ কবির আরও জানান, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী, চিনি শেষ হলে এক-দুই বস্তা করে গিয়ে নিয়ে আসি বা ফোন দিলে পাঠিয়ে দেয়।
আমাদের মজুত করারও কোনো সুযোগ নেই।’ এক প্রকার চিনির দাম নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ ক্রেতাদের মনে। কার কাছেই বা চাইবেন ন্যায় বিচার। এত সবের মধ্যে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়! কারা চালাচ্ছেন, এই চিনির সিন্ডিকেট। কবেই বা আয়ত্তে আসবে চিনির বাজার। ২০২১ সালের শুরুতে এক কেজি চিনির দাম ছিল ৬৫ টাকা। পরে ৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৭০ টাকা। এরপর গেল ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন-বিএসএফআইসি আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করে ৭৫ টাকা।
আমাদের কাগজ/এমটি






















