অর্থ ও বাণিজ্য ২৪ নভেম্বর, ২০২২ ১১:৩৩

অর্ধেকে নেমেছে সিরামিক শিল্প ,জানা গেছে কারণও 

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ দেশি সিরামিক শিল্পের উত্থানের সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট। কয়েক বছর ধরে দ্রুত প্রসারমান এ শিল্পে সম্প্রতি নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানের কারখানা। 

 

জানা যায় ,গাজীপুরের কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার টেবিলওয়্যার। গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।

এ নিয়ে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক কামাল বলেন, ‘আগে দৈনিক এক লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট টাইলস উৎপাদন করা যেত। গ্যাসসংকটের কারণে এখন উৎপাদন নেমে এসেছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার বর্গফুটে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে তিন চুল্লির মধ্যে সন্ধ্যার পর দুটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দিচ্ছি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ’

 

ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক এবং বাংলাদেশ সিরামিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সিরামিকশিল্পে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছি। তবে কারখানাগুলো বিভিন্ন এলাকায় হওয়ার কারণে এটি করা সম্ভব নয়। সরকার চাইলে এলাকাভিত্তিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

ফু-ওয়াং ও ফার সিরামিকসের মতো সিরামিকশিল্পের অনেক কারখানাই গ্যাসসংকটের কারণে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। কারণ সিরামিক কারখানার জন্য গ্যাস অতিপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। যদিও এলাকাভেদে কিছু কারখানায় গ্যাসের সমস্যা কমবেশি হচ্ছে।

সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সিরামিক খাতে বর্তমানে ৭০টি প্রতিষ্ঠান আছে। তার মধ্যে ২৫টির বেশি বৃহৎ কারখানা চার-পাঁচ মাস ধরে তীব্র গ্যাসসংকটে ভুগছে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহের সিরামিকপণ্য, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার কারখানাগুলোতে দৈনিক আট থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ থাকছে না। ফলে কারখানাভেদে উৎপাদন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যার কারণে কম্পানিগুলো লোকসান গুনছে। এভাবে আর কয়েক মাস চলতে থাকলে কারখানা বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না বলেও উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

 

বিসিএমইএর সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সিরামিকশিল্পটা মূলত গ্যাসনির্ভর। চলমান গ্যাসসংকটে প্রতিটি সিরামিক কম্পানি লোকসান দিচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সঠিক সময়ে পণ্য দিতে না পারায় বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ বাতিল করছে।


উল্লেখ্য, এক সময় সিরামিক ও কাচকে বলা হতো আমদানিপণ্য। দেশীয় শিল্পের প্রসারে গত চার-পাঁচ বছর সিরামিক পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ। ফলে সিরামিক শিল্পে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে দেশে। চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও হচ্ছে বিশ্বের প্রায় ৫০ দেশে। ক্রমেই বড় হচ্ছে এই শিল্পের বাজার। বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। তবে গ্যাস সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এ খাতের রপ্তানি লক্ষ্য।

 

আমাদের কাগজ/এম টি