অর্থ ও বাণিজ্য ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ০১:৫০

বাণিজ্য মেলায় এক খাটের দাম ১ কোটি,দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ এ যেন স্বপ্নের কিনবা জাদুকারি কোন খাট! পরী পালং এই খাটটি রাজধানীর পূর্বাচলে চলমান ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। যা দেখতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কিনতে না পারলেও চোখের দেখা দেখতে তো আর পয়সা গুনতে হচ্ছে না। 

জানা যায়, খাটের দাম হাঁকা হয়েছে এক কোটি টাকা। আর এই খাটটির সঙ্গে মোটরসাইকেল ও স্বর্ণের গয়না ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্রেতা।

মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে পরী পালং খাট। রাজকীয় কারুকাজ ও পরীর ডিজাইনে এটি তৈরি করা হয়েছে। মেশিনের ব্যবহার ছাড়াই সর্বোচ্চ নৈপুণ্য ফুটিয়ে তুলেছেন কারিগর। এসব মুগ্ধ করেছে নৈপুণ্য ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। খাটটির ডিজাইনার ও মালিক মো. নুরুন্নবী। তিনি খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

তবে তিনি পেশাদার কোনো ফার্নিচার ব্যবসায়ী নন, পল্লী চিকিৎসক। শখের বশে খাটটি কারিগর দিয়ে বানিয়েছেন। 

খাটের নতশায় দেখা যায়, এর চার কোণে দাঁড়িয়ে আছে পরীর আদলে চারটি মূর্তি। বিভিন্ন অংশে আরও ১২টি পরী রয়েছে। আধুনিক, নানন্দিক কারুকাজ এবং শৈল্পিক আবহে এটি তৈরি করা হয়েছে। যা দেখতে স্টলের সামনে ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।

খাটটির বিশেষত্ব কী এবং দাম কেন কোটি টাকা জানতে চাইলে এর স্টলে খাটের দায়িত্বে থাকা অন্তর মাহমুদ বলেন, “পরীর ডিজাইনে তৈরি করায় নাম দেওয়া হয়েছে পরী পালং খাট। এটি চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় তৈরি। এতে মেশিনের ব্যবহার হয়নি, সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষত্ব হলো এর ডিজাইন কিংবা ক্যাটালগ বিশ্বের কোথাও নেই। সৃষ্টিশীল চিন্তাভাবনা থেকে শখের বশে খাটের ডিজাইন করেছেন আমার ভাই। তৈরি করেছেন স্থানীয় কারিগর আবু বক্কর সিদ্দিক। ২০১৭ সালে তিনি ও তার এক সহকারী মিলে কাজ শুরু করেন। তিন বছর দুই মাসে কাজ সম্পন্ন করেছেন তারা। কারিগরের মজুরিসহ ৪০-৪১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য মেলায় স্টল নেওয়াসহ নানা খরচ মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।”

কাঠের বার্নিশসহ আনুষঙ্গিক কাজের বর্ণনা দিয়ে খাটের মালিক নুরুন্নবীর ভাই অন্তর মাহমুদ বলেন, “কাঠের বার্নিশের কাজ বেশ মুশকিলের। কারণ এটি সম্পূর্ণ হাতে করতে হয়েছে। এ কারণে প্রথমে তিনজন কারিগর কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আবু বক্কর সিদ্দিক কাজ করতে রাজি হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সৃজনশীল শিল্পকর্ম। শিল্পকর্মের কোনো মূল্য হয় না। আমরা খাটের দাম এক কোটি টাকা নির্ধারণ করেছি। মেলায় এখন পর্যন্ত ৫১ লাখ টাকা দাম উঠেছে। মেলার আরও কিছুদিন বাকি আছে। আশা করছি, প্রত্যাশিত দাম পাবো। যিনি এই শিল্পকে মূল্যায়ন করে খাটটি কিনবেন, তাকে একটি ইয়ামাহা এফ জেড এস মোটরসাইকেল ও এক ভরি ওজনের সোনার গয়না উপহার দেওয়া হবে।”

একজন সংসদ সদস্য খাটটি কিনতে চেয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য ৮০ লাখ টাকায় খাটটি কিনতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় এক নাগরিককে তিনি খাটটি উপহার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শিল্পী তার কর্মকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এজন্য বিক্রি না করে প্রথমবার বাণিজ্য মেলায় খাটটি তুলেছেন।”

মিশু নামের এক দর্শনার্থীদের দেখতে এসে জানান, ঘরে বসে কিছুদিন ধরে ই সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে দেখে আজ নিজ চোখে একবার দেখতে আসা বাণিজ্য মেলায়। 

তিনি জানান, দামের সাথে এর অনেকটাই মিল রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, দানব আঁকারের দেখতে পরী পালং এই খাটটি।ওজনেও অনেক। কিনার সাধ্য থাকলে ঠিকি কিনি নিয়ে যেতাম। 

দেখতে ভিন্নতা ও নানা রকম নকশায় বাহারি সাজে সেজেছে বাহারি খাটটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয় কিনা এখন সেটা দেখা বাকি। 
 

আমাদের কাগজ/এমটি