অর্থ ও বাণিজ্য ৩০ মে, ২০২৩ ০৪:৩৫

ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মতো ভোগ্যপণ্যের মূল্যও চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। শেয়ারের কৃত্রিম সংকট ও গুজব ছড়িয়ে কারসাজির মাধ্যমে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়, একইভাবে ভোগ্যপণ্য কিংবা নিত্যপণ্যের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়াতে দেখা যায়। পুঁজিবাজারের মতো এখানেও রয়েছে বিভিন্ন সিন্ডিকেট, যারা সরবরাহজনিত কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশ ভুগছে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে। আর সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের বর্ধিত মূল্য মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পুঁজিবাজার ও পণ্যবাজারে কারসাজির একই হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশে চলতি বছর পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও আমদানি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে পাইকার ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে তিনগুণ দরে বিক্রি করছেন মসলাজাতীয় এ পণ্যটি। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৩০-৩৩ থেকে ৮৫-৯০ টাকায় উন্নীত হয়। দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৬ থেকে ২৮ লাখ টন। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২৫ লাখ টন।

এক মাসেই দ্বিগুণ পেঁয়াজের দাম


ব্রয়লার মুরগির দাম গত বছর ছিল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, যা বর্তমানে অন্তত ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই-আড়াই মাস আগে তা সর্বোচ্চ ২৭০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। দেশে মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি খাবারের সিংহভাগ উৎপাদন করে সাত-আটটি কোম্পানি। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানি হচ্ছে কাজী ফার্মস গ্রুপ, নারিশ, প্যারাগন, আফতাব, কোয়ালিটি, প্রোভিটা, সিপি ও ডায়মন্ড এগ। এসব কোম্পানি নিজেরা মাংস ও ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি মুরগি বাচ্চা ও খাবারও উৎপাদন করছে। নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি প্রান্তিক খামারগুলোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন করছে। ফলে দেশের পুরো বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে করপোরেট এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে।

করপোরেটের দখলে ব্রয়লার


নিম্ন আয়ের মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটায় ডিম দিয়ে। কিন্তু সেই ডিমও এখন ব্যয়বহুল। এক বছর আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ৯৬ থেকে ১০৫ টাকা, যা এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তা ১৬০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ডিমের দাম এখন যেভাবে বাড়ছে, তাতে কিছুদিনের মধ্যেই ১৬০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিমের দামে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কোম্পানি


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ভোজ্য তেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে দুই লাখ টন উৎপাদন হলেও চাহিদার প্রায় সমপরিমাণের সয়াবিন ও পামওয়েল আমদানি করা হয়। দেশের আটটি করপোরেট গ্রুপ এসব ভোজ্য তেল আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হলে সরকার এ বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। যদিও পরোক্ষভাবে এর দাম নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপগুলো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুধু ঘোষণা দেয়।

সিন্ডিকেটই ঠিক করে তেলের দাম


একই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চিনির বাজারও। বার্ষিক ২০ লাখ টন চাহিদার প্রায় পুরোটাই এসব গ্রুপের মাধ্যমে আমদানি হয়। ভোক্তাপর্যায়ে চিনির দাম কত হবে তা মূলত এরাই নির্ধারণ করে। এখন প্রতি কেজি চিনির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যদিও গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে চিনির দাম বাড়লেও এখন তা আবার কমতে শুরু করেছে। ১১ বছরের মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল প্রতি পাউন্ড ২৭ সেন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২৫ মে তা ২৫ সেন্টের নিচে নেমে এসেছে। ২০২০ সালের ২৭ এপ্রিল প্রতি পাউন্ড চিনির দাম ছিল ৯ সেন্টের সামান্য বেশি। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে গিয়ে ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে রয়েছে প্রয়োজনীয় এ পণ্যটি। ২৫ বছরের মধ্যে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ পাউন্ডপ্রতি ৩৪ সেন্টে উঠেছিল এ পণ্যটির দাম।

চিনির নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে

সূত্র:দেশ রূপান্তর

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর