অর্থ ও বাণিজ্য ২৮ আগস্ট, ২০২৩ ০৫:৫৩

প্রতিদিন আড়াই লাখ ডাব আসে ঢাকায়

ডাবের আগুন দাম অযৌক্তিক, কাল থেকে তদারকি

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্ক : ডাবের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার খুঁজতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ দিকে ডাবের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের জানান, যোগান কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটায় ডাবের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি।  

আজ (সোমবার) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ডাব ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

ব্যবসায়ীদের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি ভোক্তা অধিদপ্তর। তারা বলছে, যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তা অযৌক্তিক। দাম বাড়ার প্রকৃত কারণ যাচাই এবং বাজার তদারকি করতে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) থেকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে অধিদপ্তর। 

বৈঠকে দাম বাড়ার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আড়ৎদাররা জানান, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ পিস ডাব আসে। ক্রয়মূল্য ও পরিবহন খরচসহ ডাব আড়ৎদারের ঘরে পৌঁছাতে প্রতি পিসে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫ টাকা গুনতে হয়। পরবর্তীতে তারা খরচ ও লাভ রেখে সাইজ ভেদে পিস ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করেন। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন প্রতি পিস ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতি পিস ডাবে ১০-১৫ টাকা লাভ করেন দাবি করে বৈঠকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সাইজ ভেদে আড়ৎ থেকে ডাব কিনে থাকি। ভালো মানের ডাবগুলো গত দুমাস আগে কিনেছি প্রতিটি ৮০ টাকা দরে। বর্তমানে সেগুলো কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়। আমাদের সব খরচ রেখে বিক্রি করি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। এতে আমাদের সর্বোচ্চ ১০-১৫ টাকা করে লাভ থাকে।

সভায় উপস্থিত কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী অসৎ। এটা কীভাবে হতে পারে? আপনাদের লজ্জাও নেই। আপনারা দেশের বারোটা বাজাচ্ছেন, ভোক্তাদের বারোটা বাজাচ্ছেন। আপনারা এটা করবেন না প্লিজ।’ তিনি বলেন, ‘বাজারে গিয়ে মানুষ কিছু কিনতে পারছে না। যদি ভোক্তারা মরে যায় তাহলে আপনাদের ব্যবসা থাকবে না। সবক্ষেত্রে অরাজকতা চলছে, এভাবে অরাজকতা চলতে দেওয়া যাবে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি ডাবের জন্য আমাকে এখানে বৈঠক করতে হবে। আগামীকাল থেকে ডাবের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তদারকি করা হবে। আমি আমার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে দেব, তারা সারা দেশের বাজারে গিয়ে দেখবে আপনাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না, টিন নাম্বার আছে কি না? আপনারা ভ্যাট-ট্যাক্স ঠিকঠাক দিচ্ছেন কি না। আপনারা অবশ্যই আপনাদের ভাউচার রাখবেন। যাদের ভাউচার নেই তাদের আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। এরমধ্যে আপনারা এটি করে নেবেন।’

আমাদেরকাগজ/এমটি