অর্থ ও বাণিজ্য ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৫৪

সরকারি তিন মূল্য তালিকা চ্যালেঞ্জের নজির নেই

ছবি :সংগ্রহীত

ছবি :সংগ্রহীত

ডেস্ক রিপোর্ট (তুষার আহম্মেদ) : সরকারি তিন পণ্যের দাম বেঁধে দিলেও তা মানছে না রাজধানীর বাজার মুখী ব্যাবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দৈনিক পণ্যমূল্য তালিকা প্রকাশ করলেও তা একটির সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিক্রেতাদের যেন গা-ছাড়া ভাব। সরকারি কোনো তালিকারই তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম উশুল করছেন তারা। 

 এদিকে পণ্যমূল্যের সঙ্গে খুচরা বাজারে বিক্রিতে রয়েছে বেশ ফারাক। খুচরা ব্যাবসায়ীরা বলছেন লস দিয়ে ব্যাবসা করা যায় না। আর অন্যদিকে নিয়ম করে প্রতিনিয়ত ঠকে আসছে ভোক্তারা। 

অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাজারের মূল ফটকে তালিকা টানানোর বিধান থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা অনুপস্থিত।

কোনো কোনো বাজারে চোখে পড়লেও সেটির অবস্থা খুবই অপরিষ্কার ও জরাজীর্ণ। বোর্ডের লেখা খুবই অস্পষ্ট। হালনাগাদও করা হয় না।

জানা যায়, অকার্যকর মূল্য তালিকা প্রতিদিন প্রকাশ করে সরকারি সংস্থাগুলো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

টিসিবির দৈনিক বাজার মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম দেওয়া ছিল ৪৮-৫২ টাকা। আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মূল্য তালিকায় প্রতি হালি ডিমের দাম দেওয়া ছিল ৪৭-৪৮ টাকা। একই দিন রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৬ টাকা। ওই দিন টিসিবির তালিকায় গরুর মাংসের দাম দেওয়া হয় ৭৫০-৭৮০ টাকা।

আর কৃষি বিপণনের তালিকায় দেওয়া হয় ৭২৯-৭৫০ টাকা। তবে নয়াবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা। টিসিবির তালিকায় প্রতি কেজি মুগ ডালের দাম দেওয়া ছিল ৯৫-১৩০ টাকা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তালিকায় ১২২-১২৮ টাকা ও রাজধানীর রায় সাহেব বাজারে মানভেদে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টিসিবির তালিকায় কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা। আর কৃষি বিপণনের তালিকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০-৬৪ টাকা। তবে রামপুরা কাঁচাবাজারে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া টিসিবির তালিকায় কেজিপ্রতি চিনির দাম ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। কৃষি বিপণনের তালিকায় ছিল ১৩২-১৩৫ টাকা। কাওরান বাজারে ১৩৫ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। টিসিবির তালিকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম দেওয়া আছে ১৭০-১৮০ টাকা, কৃষি বিপণনের তালিকায় ১৬২-১৬৭ টাকা। কিন্তু বাজারে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে শুধু রোববারই নয়, অন্যান্য দিনও প্রতিষ্ঠান দুটির মূল্য তালিকায় অমিল থাকে। পাশাপাশি দুই তালিকার সঙ্গে বাজারদরেরও মিল থাকে না।

জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজারের সঙ্গে সমঞ্জসতা রেখে সরকারি সংস্থাগুলোর দৈনিক বাজার মনিটরিংসহ বর্তমান বাজারের মূল্য তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে,রাজধানীর বাজারে পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হয় না হয়। সংস্থাগুলোর তালিকায় যদি বিভ্রান্তি থাকে, তবে ভোক্তারা সংস্থাগুলোর প্রতি আস্থা হারাবে। এছাড়া সংস্থাগুলো এই তালিকা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠায়। সেক্ষেত্রে ভোক্তার সঙ্গে নীতিনির্ধারকারও পণ্যমূল্য নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিদিন টিসিবির জনবল দিয়ে একাধিক বাজার হতে সকাল ৮টা থেকে পণ্যমূল্য সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো ওয়েবপেজে প্রকাশ করে। যদি কারও মনে হয় টিসিবির মূল্য তালিকায় পণ্যের মূল্য ভুল আছে, সেক্ষেত্রে আমাদের লিখিতভাবে দিলে আমরা তাকে অনুরূপভাবে এর ব্যাখ্যা জানাব। দরকার হলে সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাব। 

তিনি আরও বলেন, টিসিবি যে শুধু পণ্যের প্রতিদিনের মূল্য প্রকাশ করে সেটা নয়, কোন পণ্যের দাম বাড়ল বা কমল সেটাও প্রকাশ করে থাকে। এতে ভোক্তাদের উপকার হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরের লোকজন প্রতিদিন সকালে বাজারে গিয়ে পণ্যের মূল্য তালিকা সংগ্রহ করেন। পরে এগুলো প্রকাশ করা হয়। কোন বাজারে কেমন মূল্য আছে সেটাও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া পাইকারি ও খুচরা বাজারের পার্থক্যও দেওয়া থাকে। রাজধানীর সঙ্গে অন্যান্য জেলার তুলনা করে পণ্যের দামও দেওয়া হয়। তাই আমাদের পণ্যমূল্য তালিকার সঙ্গে বাজারের মূল্য ভুল হওয়ার কথা নয়। তবে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিন রাজধানীর কাওরান বাজারের সামনে সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোনো মূল্য লক্ষ্য করা যায়নি। বাজারের ভেতরে সিঁড়িঘরের সামনে জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখ। 

কোনো পণ্যেরই মূল্যও লেখা নেই। পাশাপাশি বাজারে একাধিক দোকান ঘুরে নিজ উদ্যোগে মূল্য তালিকা রাখলেও সেগুলো ৩-৫ দিনে আগের হালনাগাদ করা বলে নজিরে এসেছে। 

কাওরান বাজার কাঁচামাল আড়ত ব্যবসায়ী মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাজারে আগে সিটি করপোরেশন থেকে একটি মূল্য তালিকা টাঙানো হতো। এখন নেই। তবে বাজারের সব দোকানদারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে পণ্যমূল্য টাঙানো ও বিক্রি করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয়। 

এরপরও কেউ ব্যত্যয় করলে আমাদের কি করার আছে। তবে আমার মনে হয় আমাদের বাজার অন্যান্য অনেক বাজারের তুলনায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টা করছে।

আমাদেরকাগজ/এমটি