লাইফস্টাইল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে আমাদের শরীরে। তবে যখন ডায়াবেটিস আমাদের শরীরে বাঁসা বাধে তখন চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে রাশ টানতেই হবে এমনটাই ধারণা অনেকের। আসলেই কি তাই? অনেকেই মনে করেন চিনি খেলেই বুঝি ডায়াবেটিস হয়। চলুন জেনে নেই এ বিষয়ে।
গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন গণমাধ্যমকে জানান,চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয় এ কথার প্রত্যক্ষ কোনও ভিত্তি না থাকলেও পরোক্ষ কিছু সংযোগ আছে। যেমন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, কোল্ড ড্রিংক, ডেসার্ট বা রিচ ফুড খেলে ওজন বেড়ে যায়। আর ওজন বেড়ে গেলে বা ওবেসিটি থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। সে হিসেবে চিনির সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকির একটি সম্পর্ক রয়েছে।
সাধারণত খেজুরের রস কিংবা আখের রস জ্বাল দিয়ে এটি তৈরি করা হয় গুড়। গুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান, যেমন পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে। তবে তার মানে এই নয় যে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুড় খাওয়া স্বাস্থ্যকর। যদিও গুড়ে আয়রন থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তারপরও ডায়াবেটিস রোগীদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। ১০০ গ্রাম গুড়ে ৩৮৩ ক্যালরি, ৬৫ থেকে ৮৫ শতাংশ সুক্রোজ থাকে এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ থাকে, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুড় খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অনেকে মনে করেন, চিনির পরিবর্তে গুড় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, এটা ঠিক নয়। বরং গুড়ে থাকা সুক্রোজ সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে এটি চিনির মতোই ক্ষতিকর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে এমন খাদ্য রাখা উচিত, যার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কম থাকে। গুড়ের জিআই মাত্রা খুব বেশি থাকে। গুড় খেলে ব্লাড সুগারের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীর রোজের ডায়েটে গুড় থাকলে কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, এমনকি শরীরের অন্যান্য অঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে।
আমাদের কাগজ//জেডআই






















