আমাদের কাগজ ডেস্ক: দুনিয়ার অন্যত্র যেমন, বাংলাদেশে তেমন শিঙাড়া ও সমুচা এক নয়। এখানে শিঙাড়া চতুস্তলাকাকৃতি (tetrahedron) অনেকটা শিঙাড়া ফলের (water caltrop ev Trapa natans) মতো দেখতে কিন্তু সমুচা দেখতে কিছুটা চতুস্তলকের ফ্রাসটামের (frustum) মতো।
দুটো খাবারের পুরেও (filling) হেরফের আছে। বাংলাদেশে শিঙাড়াতে পুর হিসেবে সাধারণত আলু, নানা রকমের সবজি, মাংস, কলিজা ইত্যাদি দেওয়া হলেও সমুচাতে পুর হিসেবে কী দেওয়া হয়, সেটা একটা প্রশ্ন। এখানে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ দেওয়া হয় বটে, কিন্তু সেসব মুখ্য দ্রব্য নয়। কেউ কেউ মাংসের কিমা দেবার দাবি করলেও পাঁচ-দশ টাকা দামের সমুচায় মাংসের কিমা দেবার দাবির কোনো ভিত্তি নেই। তাহলে সেখানে মুখ্যদ্রব্য কী? দিনের কোনো এক সময়ে দেখা যায় সমুচার রেস্তোরাঁতে 'নাচোস'-এর (nachos) মতো কিছু একটা জিনিস বিপুল পরিমাণে ভাজা হচ্ছে, কিন্তু এই খাবার সেখানে বিক্রি করা হয় না।
এই নাচোস বা মুচমুচে রুটির টুকরো ভেঙে গুঁড়ো করে তার সাথে সুজি, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, গরম মসলা ইত্যাদি মিশিয়ে সমুচার পুর তৈরি করা হয়। বস্তুত সমুচার পুরের এই কাহিনি জানলে আমাদের মধ্যে কতজন সমুচা খেতে আগ্রহী হবেন, সেটা চিন্তার বিষয়। আমরা শিঙাড়ার পুর নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা করি, নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের কথা বলি, শিঙাড়াতে চীনাবাদাম দেওয়া ঠিক কি না, এটা নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করি, কিন্তু সমুচার পুর নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ উচ্চবাচ্য নেই- বিষয়টি একটু অদ্ভুত বটে।
এত হেরফের থাকলেও শিঙাড়া আর সমুচা মূলত একই ঘরানার খাবার- ময়দার পাতলা রুটি (flatbread) বানিয়ে তার ভেতরে পুর দিয়ে মুড়িয়ে ভাজা একটি খাবার। অবশ্য দুনিয়াজুড়ে এই খাবারের যে হাজারো প্রকরণ আছে, সেখানে তাওয়ায় অল্প তেলে ভাজা (shallow fried) অথবা কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজা (deep fried), শুকনো তাওয়ায় সেঁকা (dry fry) বা তন্দুরে সেঁকা (baked), ভাঁপানো (steamed), সেদ্ধ (boiled) সব রকমে বানানোর কায়দাই কমবেশি প্রচলিত আছে। এখনকার স্বাস্থ্য সচেতন লোকজনের কেউ কেউ শিঙাড়া/সমুচা এয়ার ফ্রাই (air fried) করেও খান। দেশভেদে, অঞ্চলভেদে, প্রতিষ্ঠানভেদে, ব্যক্তিভেদে এই খাবারটির চেহারা, প্রস্তুতপ্রণালি, উপাদানে বিস্তর পার্থক্য আছে। তবু এই সকল খাবার মোটামুটি অভিন্ন নামে প্রায় সারা বিশ্বে প্রচলিত। সেই নামগুলোতে একবার চোখ বোলানো যাক।
বাংলাদেশ: শিঙাড়া/সমোসা/সমুচা
ভারত: শিঙাড়া/সমোসা
আসাম (ভারত): সিংরা
গোয়া (ভারত)/পর্তুগাল: শামুসা
নেপাল: সিঙ্গাড়া/সামোসা
ভুটান: সামোসা
পাকিস্তান: সামোসা
আফগানিস্তান: সাম্বোসা
মালদ্বীপ: বাজিয়া
ইরান: সাম্বুসেহ্
কাজাখস্তান: সামসা
কিরগিজস্তান: সামসা
উইঘুর/সিন জিয়াং (গণচীন): সামসা
উজবেকিস্তান: সোমসা
তুর্কমেনিস্তান: সোমসা
তাজিকিস্তান: সাম্বুসা
আরব দেশসমূহ: সাম্বৌসেক
ইসরায়েল: সাম্বুসাক্ব
ইথিওপিয়া: সামিবুসা
তানজানিয়া/কেনিয়া/উগান্ডা/রুয়ান্ডা/বুরুন্ডি: সামোসা
সোমালিয়া/জিবুতি: সম্বুসে
দক্ষিণ আফ্রিকা: সামুসা
পশ্চিম আফ্রিকা: সামোসা
মরিশাস/রিইউনিয়ন: সামৌসা
বার্মা/মিয়ানমার: সামুযা
ইন্দোনেশিয়া: সামোসা
অ্যাংলোফোন বিশ্ব: সামোসা
আমাদের কাগজ/টিআর






















