ডেস্ক রিপোর্ট।।
মানুষের কোন পশু-পাখির সাথে নয়, বরং মানুষের সাথেই মনের ভাব আদান প্রদানের জন্য ব্যবহার করে পাখির ভাষা। বিষয়টি অবাক করা হলেও পাখিদের মতো শিষ দিয়ে ভাবের আদান প্রদান করা হয় তুরস্কে।
তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর ও এর আশেপাশের অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের আদি ভাষা এটি। তবে এ ভাষায় কথা বলতে পারাদের বেশিরভাগই প্রবীণ। তাই এখন ভাষাটি বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউনেসকোর একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এ ভাষায় কথা বলতে পারেন। ফলে, বিপন্ন হয়ে পড়ায় এ ভাষাকে উদযাপন করতে উৎসবেরও আয়োজন করা হয় তুরস্কে।
ইউনেসকো ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এ ভাষাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটি এও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ভাষাটি বিলুপ্ত হতে বসেছে।
জানা যায়, কয়েক শতাব্দী আগে তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের একটি গ্রামের মানুষ প্রথমে এ ভাষার ব্যবহার করা শুরু করে। গ্রামটির নাম কুসকয় (তুর্কিতে পাখির গ্রাম)। ভাষাটি ব্যবহার করে কোনো মাধ্যম ছাড়াই অনেক দূর থেকেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। তাই পরবর্তীতে ভাষাটির ব্যবহার আশেপাশের অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সহজলভ্যতার সাথে সাথে ভাষাটিও পড়েছে হুমকির মুখে।
ফলে, ভাষাটি যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য স্থানীয় স্কুলেও শেখানো হচ্ছে এ ভাষা। তবে সব থেকে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, তুরস্কের গিরেসান বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন অনুষদ এ ভাষাটিতে যুক্ত করা হয়েছে এ ভাষাটির কোর্স।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বিলুপ্তপ্রায় একটি কার্যকরী ভাষাকে টিকিয়ে রাখতেই তাদের এ উদ্যেগ। এছাড়াও এ ভাষাটি তাদের দেশের একটি অন্যতম ঐতিহ্যও। তাই তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভাষাটিকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত করিয়ে দিতে।






















