শিক্ষা ১০ অক্টোবর, ২০২০ ০১:২১

করোনায় মোবাইল-ল্যাপটপে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা

ফাহিমা আক্তার সুমি

করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। শিশুদের কাটছে ঘরবন্দী জীবন। অধিকাংশ শিশুই হারিয়ে ফেলছে প্রাণচাঞ্চলতা। এখন তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চলছে অনলাইনে। হাতে উঠেছে মোবাইল, ল্যাপটপসহ অন্য ডিভাইস। আবার অনেকে অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঝুঁকে পড়ছে গেমস সহ নানা অনলাইন কার্যক্রমে। ফলে মনোযোগ নেই তাদের পড়াশোনায়। আসক্ত হয়ে পড়ছে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে।

১

এই ঘরবন্দী সময়ে শিশুরা প্রতিদিনের স্কুলে যাওয়ার আনন্দ ও ব্যস্ততার অনুভুতিকে যেন হারিয়ে ফেলছে পুরোপুরিভাবে। এতে মানসিকভাবেও বির্পযস্ত হচ্ছে তাঁরা। এ ব্যাপারে চিন্তিত বাচ্চাদের অভিভাবকরাও। এসকল ঘরবন্দী শিশুদের অনেকের অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় আমাদের কাগজের সাথে।

ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী মাসফিহা মাহজাবিনের মা আফরিন আক্তার বলেন, মেয়ের আগের মত পড়াশোনায় মনোযোগ নেই। অনলাইন ক্লাসেও বেশ অমনোযোগী। আগে বেশিরভাগ সময় স্কুল থেকে এসে বই নিয়ে বসতো। আর এখন মোবাইল ফোন হাতে সারাদিন গেম ও ইউটিউব দেখায় ব্যস্ত থাকে। নিষেধ করতে গেলে মন খরাপ করে বসে থাকে।

২

চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী শাহগাজী পরশী নিজেই বলে, বাসায় সময় কাটে না। আগে প্রতিদিন স্কুলে যেতাম। আর এখন বাসায় থাকতে হচ্ছে। আব্বু-আম্মু ঘুরতেও নিয়ে যায় না। তাই বাসায় বসে মোবাইলে গেম খেলি আর ইউটিউবে কার্টুন দেখি।

দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র আরিজ ইসলামের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে বাসায় অনলাইনে ক্লাস করে। গতকাল ব্যাগে নিজের কিছু জামা গুছিয়ে গ্রামে দাদা বাড়িতে যাবে বলে দরজা বাইরে চলে যায়। আবার ভিতরে এসে ফোন হাতে নিয়ে গেম খেলতে শুরু করে। স্কুল চলাকালীন সময়ে কখনও তেমন ফোন হাতে নিতে সময় পেত না। সময় মতো ঘুমাতো। আর এখন ফোন নিয়ে বেশিরভাগ সময় কাটায়। ওর আচারনেও পরিবর্তন এসেছে অনেক।

৩

আহম্মেদ ইমতিয়াজ নূর ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তার অনলাইনে ক্লাস করতে হয় না। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় সে সবসময় ফোনে গেম খেলে। ইমতিয়াজের মা সোহানা বলেন, ছেলে আগে ফোন ধরতো না। কিন্তু এখন স্কুল বন্ধ থাকায় ফোন নিয়ে সারাক্ষণ থাকে। বই নিয়ে বসাতে চায় না।

এই ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড.লেলিন চৌধুরী বলেন, বন্দী জীবন শিশুদের প্রাণ চঞ্চলতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে নানা ধরণের অসুস্থতা তাদেরকে আঁকড়ে ধরছে। মানসিকভাবে বিকাশের বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইন্টারনেটে বিচরণের ফলে এক ধরণের আসক্তি তৈরি হচ্ছে। এটা কিন্তু আগামী সময়গুলোতে এসব শিশুদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এখনের এই গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো থেকে শিশুদের বেড়িয়ে আসতে কঠিন হবে। ফলে নানামুখী অপরাধ করতে তাদের সাহস গড়ে উঠবে।

৪

তিনি আরও বলেন, স্কুল কিন্তু শুধু পড়াশোনার জায়গা না। নানান বয়সী বন্ধুদের সঙ্গে নানান ধরনের ভিন্নমত তৈরি হওয়ার জায়গা। ভালো কিছু শেখার জায়গা। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মন ভালো হয়। এর থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অভ্যাসের প্রভাব আরও ক্ষতিকর হবে।