নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ২০ অক্টোবর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রিতষ্ঠাবার্ষিকী। আজ সকাল নয়টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য মীজানুর রহমান। এরপর সকাল সাড়ে নয়টায় একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল উদ্বোধন করেন তিনি।
২০০৫ সালে রাজধানীর পুরান ঢাকায় ১১ একর জায়গা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই নানা আয়োজেনর মাধ্যমে ২০ অক্টোবরেক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু হলেও এর ইতিহাস ১৬২ বছরের। ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এর প্রতিষ্ঠা। ১৮৭২ সালে জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন।
১৯০৮ সালে এটাকে কলেজে পরিণত করা হয়। পরে নানা সংগ্রাম ও চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাস করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। সেই থেকে সীমিত ক্যাম্পাস, আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, অপ্রতুল গবেষণাসহ নানা সংকট নিয়েও সফলতার হাতছানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করল আজ। এত বছরের ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও জবি বাংলাদেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত।
যদিও আজ একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল উদ্বোধন করা হয়েছে। এই হলে প্রায় ২০০০ ছাত্রীর আবাসন নিশ্চিত হবে মাত্র। যা ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে খুবই অপ্রতুল। এ ছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নানা সংকট, অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সমস্যা, ভূমি সংকট, শিক্ষার্থীদের গবেষণা খাতে স্বল্প বাজেট। এত অপর্যাপ্ততা আর এই সীমাহীন সংকটের মধ্য থেকেও এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। ছুটে চলছে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে।
দেশের প্রতিটি সেক্টরসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, প্রাইভেট সেক্টর, বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে জায়গা করে নিচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসআই নিয়োগ থেকে শুরু করে বিসিএসসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরিগুলোতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুরুর দিকে স্থান দখল করে আছেন। প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছেন দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে।
এছাড়াও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স, পিএইচডি গবেষণা করতে যান। আর জগন্নাথকে করে তোলেন বিশ্বের বুকে সমাদৃত। এই সফলতার পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ''আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করায় দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী আসছে। সব মিলিয়ে আমরা মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি, যার ধারাবাহিকতায় আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভালো ফলাফল করছে। এর বাইরে আমরা ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট দূর হয়েছে।






















