কৃষি ১২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:২৯

পরিত্যক্ত ইটভাটায় বিদেশি ফলের সমারোহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিত্যক্ত ইটভাটাকে নতুন রূপ দিয়ে এখন সেখানে হচ্ছে দুর্লভ ও রসালো হরেক প্রজাতির বিদেশি ফলের চাষ। এসব ফলের মধ্যে আছে- সাম্মাম, রকমেলন, মাস্কমেলনসহ তিন জাতের ব্যতিক্রম তরমুজ। এছাড়াও বিদেশি নানা জাতের আম, মালটা, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে চাঁদপুরের পরিত্যক্ত ইট ভাটায়।

বাণিজ্যিক বাজারজাত এখন শুরু না করলেও সাম্মাম, রকমেলন, মাস্কমেলন বাজারজাত করার সময় এখন। ইতিমধ্যে ঢাকার কিছু সুপারশপ আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন এসব ফলের।

oo

এসব ফল চাষের ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহাতলী গ্রামের হেলাল উদ্দিন। তিনি পেশায় একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক।

হেলাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি চাঁদপুরে নিজ গ্রামের বাড়ির পরিত্যক্ত দুটি ইটভাটার প্রায় আড়াই একর দূষণযুক্ত জমি মাটি বালি ফেলে দূষণমুক্ত করেছি। পরে সেখানে এসব ফল চাষ শুরু করেছি। এ এক নতুন ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কারণ, কৃষি মানুষকে যে কত আনন্দ দিতে পারে তা বর্ণনাতীত। আমি এখন আমার কৃষিকাজকে উপভোগ করছি। তবে অনেকটা শখের বসে আমি এই বাগান গড়ে তুলি এবং এর নাম দিয়েছি ‘ফ্রুটস ভ্যালি’।

qq

বিষমুক্ত, কীটনাশকমুক্ত অর্গানিক ফল পাইকারি মূল্যে সারাদেশের ক্রেতার হাতে তুলে দিতে আগ্রহই তিনি।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে আমার ৬০ বছরের পারিবারিক লাভজনক ইটভাটার ব্যবসা স্বেচ্ছায় বন্ধ করি। তবে, এই জমিতে পরিবেশবান্ধব সবুজের সমারোহ গড়ে তোলা আসলেই কঠিন ছিল। প্রথমবারেই সাম্মাম, রকমেলন, মাস্কমেলনের আশাতীত ফলন হয়েছে। তাই এখন বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেন এই অর্গানিক বাগান। আগামী তিন মাসেই খরচ উঠে আসার সম্ভাবনা আছে। খুব শিগগির অনলাইনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকার কিছু সুপারশপে বিক্রয় এবং বিদেশে রপ্তানি করা হবে বলে জানান তিনি।

yy

চাঁদপুর সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে চাঁদপুরে এই প্রথম জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বিদেশি দুর্লভ ফল চাষাবাদ করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তিনি। এজন্য এই উদ্যোক্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কোনো জায়গায় এ ধরনের ফল বাগান করা কোনো কষ্টসাধ্য বা ঝুঁকির বিষয় নয়। শুধু উদ্যোগে নিলে আর সামান্য পরিচর্যা করলেই এ ধরণের ফল বাগান সারাদেশের যে কোনো স্থানে করা সম্ভব।