ধর্ম ও জীবন ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০১:১১

মেরাজের রাতে যা ঘটেছিল

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে মুসলিম বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে পবিত্র শবেমেরাজ। তবে আমরা এখনও অনেকেই জানি না মেরাজের যোগসূত্র। চলুন তাহলে জেনে নেই আজ।  

রাসুল (সা.)-এর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলৌকিক ঘটনাগুলোর একটি ‘মেরাজ’। 

মেরাজ আরবি শব্দ, শাব্দিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন, আকাশপথে ভ্রমণ করা, সোপান ইত্যাদি।

রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে রাসুল (সা.) আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। ঐতিহাসিক সেই সফরকেই মেরাজ বলা হয়। 

হিজরতের পূর্বে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী হজরত খাদিজাতুল কুবরা ও চাচা আবু তালেবের ইন্তেকালের পর মক্কার মুশরিকদের নির্যাতন বেড়ে বেড়ে গেল। এ বছরটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের অন্যতম কষ্টের বছর ছিল।

শান্ত্বনার জন্য আল্লাহ তায়ালা নবীজিকে শরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় জিবরাইল (আ.) ও মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মেরাজের সফর করান।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ০১)

ইসলাম ধর্মমতে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির একাদশ বছরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিনগত রাতে হযরত জিব্রাঈলের (আ.) সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর আরশে আজিমে মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য।


রাসূল (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হচ্ছে ‘মেরাজ’। মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্যকোনও নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি।

ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব হচ্ছে, এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মে নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়।

উল্লেখ্য,পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ আজ বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. বশিরুল আলম। আলোচক হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল কাদির।

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসেবে আখ্যায়িত হয়।

আমাদের কাগজ/এমটি