জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর শহরের পিটিআই মোড় এলাকায় জুঁই এন্টারপ্রাইজে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। এমন খবরে মধ্যরাত থেকেই দোকানের সামনে লাইন ধরে আছে মোটরসাইকেল চালকরা। জ্বালানি তেলের নাগাল পেতে অনেকে আবার মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড় করিয়ে গেস্ট হাউজে থাকছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেখা যায়, জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে বেশকিছু মোটরসাইকেল চালক সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
অনেকেই সন্ধ্যার পর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে যেমন তেলের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ফলে চালকদের মধ্যে ক্লান্তিও দেখা দিয়েছে। তবে তেল পাওয়ার আশায় এই কষ্ট মেনে নিয়েই তারা লাইনে অবস্থান করছেন। অনেকে বলছেন জ্বালানি তেলের জন্য সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে চাকরি বা অন্যান্য কাজ করা সম্ভব নয়। তাই রাতেই লাইনে দাঁড়িয়েছে তারা। কেউ আবার মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ২শ থেকে ৩শ টাকার বিনিময়ে গেস্ট হাউজে ঘুমাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জামালপুরের বিভিন্ন জ্বালানি তেলের পাম্প এবং দোকানের সামনে এমন নাভিশ্বাস পরিস্থিতি।
লাইনে দাঁড়ানো খোকন নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যেকোনো সময় তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এমন গুঞ্জনে দুশ্চিন্তায় আছি। তাই আগামীকাল সকালে তেল দেওয়া হবে শোনার পর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে রাতেই লাইনে দাঁড়িয়েছি।
রাত ৯টার দিকে ফাহিম নামের এক চাকরিজীবী বলেন, আমরা যারা মার্কেটিংয়ে কাজ করি। আমাদের সারাদিন মোটরসাইকেল দিয়ে এ দোকান থেকে ও দোকান দৌড়াতে হয়। শুনলাম সকাল ১০টায় তেল দেবে। এখন যদি সকালে এসে লাইনে দাঁড়াই তবে তেল পেতে পেতে দুপুর হয়ে যাবে। আবার তেল নাও পেতে পারি। তাই রাতেই গাড়ি লাইনে রেখে পাশেই গেস্ট হাউজে ২৫০ টাকা দিয়ে রুম নিয়েছি। সকালে তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজে বের হব।
জুই এন্টারপ্রাইজের কর্তৃপক্ষ বলেন, রোববার সকাল ১০টা থেকে নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ শুরু হবে। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাত থেকেই চালকরা দোকানের সামনে অবস্থান করছে। এদের দেখে তো অবশ্যই খারাপ লাগে, তবে কি আর করব। অল্প গাড়ি ভেবে যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই এদের তেল দেই। তবে মুহূর্তেই শত শত মোটরসাইকেল দোকানের সামনে এসে দাঁড়াবে। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাছাড়া প্রশাসনের নির্দেশনার বিষয় তো আছেই।




















