সারাদেশ ৫ মে, ২০২৬ ০৮:৪৭

টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৫০ কোটি টাকার বোরো ধানের ক্ষতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধান। জেলায় অন্তত ২ হাজার ৪৪২ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর এবং হাওর ছাড়া এলাকায় ৩৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি রয়েছে।


তিনি আরও জানান, কাউয়াদিঘী হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ কার্যক্রম চললেও ভারী বর্ষণের কারণে পানি দ্রুত নামানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিম্নাঞ্চলের ধান আরও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


এদিকে হাওরের পানিতে ডুবে থাকা ধান এখনো পুরোপুরি সংগ্রহ শুরু হয়নি। এবার জেলায় ৬ হাজার ৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) সকালে কিছুটা বৃষ্টিপাত হলেও দুপুরের পর সূর্য উঠলে অনেক কৃষক মাঠে থাকা ধান রোদে শুকানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার পচে যাওয়া ধান মাড়াই করে নেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী এলাকার কৃষক বাবর মিয়া বলেন, “চার হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে পানির নিচ থেকে ধান কাটতে হচ্ছে। অনেক ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেচ চালু থাকলে এমন ক্ষতি হতো না।”

একই এলাকার কৃষক জুনেদ মিয়া ও রফিক মিয়া জানান, তারা ১৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ২ বিঘা জমির ধান তুলতে পেরেছেন। বাকি ১৩ বিঘার ধান এক থেকে দেড় ফুট পানির নিচে ডুবে আছে।

কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ধান ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৫০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

কাউয়াদিঘী হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পানি জমে থাকা ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক স্থানে ধানে অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।