নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করলেও এর মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা তিনি বোঝাননি বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশপ্রধানের বক্তব্যে সৃষ্ট সমালোচনার মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখা আসে।
এদিন ঢাকার চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেমের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। সেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”
এ বক্তব্য সামনে আসার পর আইজিপির সমালোচনা করে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। তারা আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছে।
এর মধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন আইজিপি।
“আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে শব্দটি ব্যবহার করেননি।”
পুলিশের ওপর হামলার তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।
এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিশেষ করে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৬১-তে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেমের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইজিপি।
তিনি বলেন, “আমরা (পুলিশ) যদি লাঠিপেটা করি, বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি নীরবে থাকি, তাহলে বলবেন দুর্বল পুলিশ। আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। এমপাওয়ার করতে হবে।
“আপনার সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নাই। যত বাহিনীই বলি, সেনাবাহিনী বলি, তারা দেশ রক্ষা করবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, ইন্টারনাল শৃঙ্খলা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন— সবকিছুই আপনার-আমার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। আপনারা পুলিশকেও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা কইরেন না, নিজেরাও ব্ল্যাকমেইল হইয়েন না।”
আইজিপির এ বক্তব্যের সমালোচনাও করেছেন কোনো কোনো সাংবাদিক নেতা।
কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, “সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার ইচ্ছা আইজিপির ছিল না। এ ক্ষেত্রে তার বক্তব্য অসাবধানতাবশত হয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ।




















