ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী-২ জাহাজ থেকে পেট্রল অপসারণের সময় পুনরায় বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে ৯ পুলিশ সদস্যসহ ১১ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকার নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- ঝালকাঠি পুলিশ লাইনসের এসআই আব্দুল হাকিম (৪৯), কনস্টেবল পলাশ মোল্লা (২৫), কনস্টেবল সওকত (২৩), কনস্টেবল মনির (৩০), বরিশাল নৌ পুলিশেরে মো. সিদ্দিক (৪৯), এটিএসআই হেলাল উদ্দিন (৪৫), সাগর নন্দিনী-৪ জাহাজের স্টাফ শরিফ উল্লাহ্ (৪০) ও বাবুর্চি কাইয়ুম (৩২), ঝালকাঠি সদর থানার মাঝি মো. কাওসার (২৮) এবং ঝালকাঠি সদর থানার এএসআই গনেশ (৪২)। এছাড়া আহত অন্যান্যদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আহতরা জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাগর নন্দিনী-২ জাহাজ হতে সাগর নন্দিনী-৪ জাহাজে পেট্রল অপসারণের সময় পুনরায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় সেখানে কর্তব্যরত নৌ পুলিশের অধিকাংশ সদস্যরাই আহত হয়েছেন।
আহত বরিশাল নৌ পুলিশেরে মো. সিদ্দিক জানান, প্রথমে সাগর নন্দিনী-২ জাহাজের সম্মুখ ভাগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পেট্রল অপসারণে নিয়োজিত অপর জাহাজ সাগর নন্দিনী-৪ জাহাজে আগুন লেগে যায়। জাহাজের উপরে ৪ থেকে ৫ জন স্টাফ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারা কি অবস্থায় আছেন তা দেখার আগেই আমরা আহত হই। আমরা ওই জাহাজের পাশে আলাদা একটি ট্রলারে কর্তব্যরত ছিলাম।
ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলে জাহাজে দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বরিশাল থেকে অগ্নিঘাতক বিশেষ নৌযান ঝালকাঠির দিকে রওনা হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা ব্যাপক আকার ধারণ করে নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। বরিশাল থেকে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। পরে তারা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবেই কাজ করবো। এই বিস্ফোরণে জাহাজের নিচের অংশ ফেটে জ্বালানী নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। জাহাজটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।
ঝালকাঠির সহকারী পুলিশ সুপার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, বিকেলে বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের ৮ জন পুলিশ সদস্য এবং এই ঘটনায় সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন আহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমি আমাদের আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে যাচ্ছি।
আমাদেরকাগজ/এইচএম






















