সারাদেশ ৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১২:০৬

পরীক্ষার হলে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারল শিক্ষার্থী 

আমাদের কাগজ ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এর আগে এই ঘটনাটি ঘটেছে (৮ অক্টবর)। এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নানা প্রতিক্রিয়ার নজিরে আসে। এর আগে, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার হলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।  

এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. সাইফুল আমিন এবং ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের নাম হাফিজুর 

অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দশম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল আমিন শীর্ষ নামের ওই শিক্ষার্থীর খাতা নেন ভুক্তভোগী (গার্ড) শিক্ষক। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাইফুল ওই শিক্ষককে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনা চলা কালে শেলফ ডিফেন্সের জন্য অতঃপর চড়াও হওয়া শিক্ষার্থীকে ধাক্কা মেরে দৌড়ে রুম থেকে বের হতে  

এ ঘটনায় শিক্ষকদের পক্ষে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সফিয়ার রহমান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মো. হাফিজুর রহমান বিদ্যালয়ের ১১২নং কক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরীক্ষা চলাকালীন প্রভাতি শাখার দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী মো. সাইফুল আমিন শীর্ষ অসদুপায় অবলম্বন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষক বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থী সাইফুল তাকে মারধর করে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সফিয়ার রহমান বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানছিল না। যে কারণে শিক্ষক তার খাতাটি নিয়ে নেন এবং বসতে বলেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে চড়–থাপ্পড় মারে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের পরামর্শে আমরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর আমরা অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহব্বুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে এক শিক্ষককে মারধরের কথা বলা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক কোনো অভিযোগ দেননি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, শিক্ষককে মারধর খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আমাদেরকাগজ/(এমটি)