সারাদেশ ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ০৪:০৩

ইফতারের সময় স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা, ৫ বছর পর যুবকের মৃত্যুদণ্ড   

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইচ্ছে ছিলো সুখে ঘর করবেন। তাই বিয়ে, এরপর শশুড় বাড়ি থেকে বিদেশ পাড়ি। দেড় বছর পর দেশে ফেরা। এরই মধ্যে নানা কারণে সন্দেহ সৃষ্টি হয় অভিযুক্ত মামুন ও ভুক্তভোগী রিতুর মধ্যে।

ঘটনার দিন ২০২০ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়ায় এলাকায় সেলিম খানের তিন তলা ভবনের নিচতলায় সামনে ইফতারের সময় স্ত্রী রিতু ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মামুন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।  

আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ শাহেদুল করিম এই মামলার রায় দেন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়ায় স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার দায়ে মো. আল মামুন মোহন (৩২) নামের ওই যুবকের মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ শাহেদুল করিম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
 

মামুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার শায়েস্তানগর গ্রামের মনতাজ মাস্টারের ছেলে। 

হত্যার শিকার তানজিনা আক্তার রিতু (২০) ও পারভীন বেগম (৪৫) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া এলাকার প্রবাসী মো. সেলিম খানের মেয়ে ও স্ত্রী।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর মামুন ও রিতুর বিয়ে হয়। মামুনের বাড়িতে ঘর না থাকায় রিতু বাবার বাড়িতে থাকতেন। বিদেশে চলে যান সেখানে কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন মামুন। পারিবারিক নানা কোন্দলে মামুনের হাতে খুন হতে হয় স্ত্রী ও শাশুড়িকে। 

ছুরিকাঘাত করার পর রিতু ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তার মা পারভীন বেগম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় রিতুর চাচা মো. লিয়াকত খান ফরিদগঞ্জ থানায় মামুনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন তৎকালীন সময়ের ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন। তিনি তদন্ত শেষে ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মামলাটি তিন বছরের অধিক সময় চলমান অবস্থায় আদালত ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় আদালত এই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে আরও ছিলেন অ্যাডভোকেট দেবাশীষ কর মধু ও অ্যাডভোকেট জসিমউদদীন (২)। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সেলিম আকবর ও আইনজীবী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

আমাদের কাগজ/এমটি