সারাদেশ ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৯:৫৯

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেল ৬ কোটি ৩২ লাখ

আমাদের কাগজ ডেস্ক: প্রায় চার মাস পড়ে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেল ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা। এর আগে এত টাকা আর কখনো পাওয়া যায়নি। এতে খুশি এলাকার লোকজন ও মসজিদ কমিটি। 

১৫ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস গণনা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মসজিদের পক্ষ থেকে জানানো হয় টাকার পরিমাণ। তাছাড়া কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কাজী মহুয়া মমতাজও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক। এ কর্মকর্তা আরও জানান, দেশি নগদ টাকা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া গেছে সিন্দুকে।

তিন মাস ২০ দিন পর আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খোলা হয় মসজিদের নয়টি দানবাক্স বা সিন্দুক। 

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের তত্ত্বাবধানে সিন্দুকগুলো খোলা হয়।

এসময় দানবাক্স খোলা উপ-কমিটির আহ্বায়কসহ বেশ কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। দানবাক্স খোলা ও গণনাকে ঘিরে মসজিদসহ আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আড়াই শ লোক সকাল থেকে রাত অবধি টাকাগুলো গুনে শেষ করেন।

মসজিদের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দানের টাকায়  মসজিদের বড়সড় উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। মসজিদ ঘিরে এখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন বহুতল ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মিত হবে। যেখানে ৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবে। থাকবে সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ আরও নানা আয়োজন। কমপ্লেক্সের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে প্রকল্পের কাজ।

কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের সাথে পাগলা মসজিদের পরিধির সঙ্গে বেড়েছে খ্যাতিও।