জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা সদরে সরকারি বিধি ভেঙে তেলের পাম্পে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবুর তোপের মুখে পড়েছেন এক সাংবাদিক। ‘প্রেস ক্লাবের সদস্য না হলে কেউ সাংবাদিক হতে পারে না’—এমন অদ্ভুত দাবি তুলে তিনি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন হাসনা এন্ড হেনা ফিলিং স্টেশনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জাগো নিউজের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার আল শামীমকে তিনি এসব কথা বলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের অনিয়ম ও সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আনোয়ার আল শামীম। এ সময় ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবুকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনিয়মসহ চাকুরিজীবীদের লাইন ছাড়াই কেন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে জানতে চান। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা না বলে তিনি ওই সাংবাদিকের কাছে জানতে চান, আপনি কোন ক্লাবের সদস্য, ক্লাবের সদস্য ছাড়া কেউ সাংবাদিক হতে পারে না।
এসময় জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার আল শামীম এসিল্যান্ডকে বলেন, সাংবাদিকতা করতে প্রেস ক্লাবের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক না। যে গণমাধ্যমে কাজ করি, সেই গণমাধ্যমের পরিচয়ই আসল। তখন এসিল্যান্ড বলে উঠেন আপনি তাহলে সাংবাদিকই না। জেলায় যে পাঁচ ছয়টা ক্লাব আছে সেগুলো যে কোনো একটা আগে সদস্য হন। তারপর সাংবাদিকতা করেন।
এদিকে এসিল্যান্ডের এমন অবস্থানের পর সেখানে উপস্থিত মেহেদী নামে এক যুবলীগ নেতা ওই সাংবাদিকের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, ‘আমরাই দেশ চালাই, আমাদের সঙ্গে সাংবাদিকতা চলবে না।’
প্রেস ক্লাবের সদস্য ছাড়া আর কেউ সাংবাদিক দাবি করতে পারে না
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসিল্যান্ড সাংবাদিককে স্বীকৃতি না দেওয়ায় ওই যুবক সাহস পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
কলেজ শিক্ষক মকবুল বলেন, সকাল সাত থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাই না। অথচ চাকুরিজীবীরা লাইন ছাড়াই পাম্পে আসছে আর এক হাজার করে টাকা তেল নিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে বহিরাগতরাও তেল পাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, সাংবাদিকতা করতে প্রেস ক্লাবের সদস্য হওয়া যে বাধ্যতামূলক না, তা আমার জানা ছিল না। তবে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, পুলিশ সহযোগিতা করলে তাকে আটক করা যেত, আমি কী করব?
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বলেন, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে এসিল্যান্ড এভাবে বলতে পারেন না। সাংবাদিকতা করতে প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে হবে—এমন নিয়ম তিনি কোথায় পেলেন? বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানানো হবে এবং খতিয়ে দেখা হবে।
তবে এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।





















