আন্তর্জাতিক ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৬:৪৩

টাকা দিচ্ছে সরকার, তবুও সন্তান নিচ্ছে না জাপানিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানের জনসংখ্যা কমছে। ২০১৭ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। ২০২১-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৫৭ লাখে। সন্তানের জন্ম দিলেই দম্পতিকে পাঁচ লাখ জাপানি ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা) দেবে জাপান সরকার। এতদিন এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়েন। এবার ৮০ হাজার ইয়েন বা ৫৯২ ডলার বাড়তি দেবে সরকার। 

এভাবেই সন্তানের জন্মদানে দম্পতিদের উৎসাহ দিতে চাইছে সরকার। কিন্তু এভাবে কি জন্মহার বাড়াতে পারবে তারা?

সমালোচকরা বলছেন, যে হারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং আয় একই জায়গায় থমকে আছে বা কমেছে, তাতে জাপানিরা সন্তানের জন্য খরচের ধাক্কা সামলাতে চাইছে না।

অনেকে বলছেন, কিছু অর্থ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। অতীতেও এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে দেখা গেছে। এবারও তারই পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই নতুন প্রস্তাব চালু হওয়ার কথা।

জন্মহার কমছে আশঙ্কাজনক হারে

জাপানের জনসংখ্যা কমছে। ২০১৭ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। ২০২১-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৫৭ লাখে। কোভিডের আগে একটি মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছিল, এই শতকের শেষে জাপানের জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে পাঁচ কোটি ৩০ লাখে।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে জাপানে মানুষ একটু বেশি বয়সে বিয়ে করছে। তাদের সন্তান জন্মদানের হার কম। এর প্রধান কারণই হলো আর্থিক চিন্তা। করোনা, ইউক্রেন যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমস্যা বেড়েছে বই কমেনি।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্যে দেখা গেছে, এ বছর প্রথম ছয় মাসে জাপানে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪২টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫% কম। মন্ত্রণালয় মনে করছে, পুরো বছরে শিশুর জন্মের সংখ্যা আট লাখের কম হবে। ১৮৯৯ সালের পর থেকে যা কখনো হয়নি।

খরচের ধাক্কা

বাচ্চাকে বড় করার জন্যযে অর্থ লাগে তা বিপুল বলে জাপানিরা মনে করছেন। টোকিওর গৃহবধূ আয়াকো জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া অর্থ তিনি পেয়েছেন। তার একটি ছেলে আছে। কিন্তু সরকারের প্রণোদনায় তিনি হাসপাতালের খরচ পুরোপুরি মেটাতে পারেননি।

জাপানে সিজারিয়ান বাচ্চার জন্ম দিতে গেলে গড়ে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ইয়েন লাগে বলে সংবাদপত্র মাইনিছির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আয়াকো বলেন, “আমরা আরেকটি সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আমি ও আমার স্বামী মিলে আলোচনা করে দেখলাম, আর্থিক দিক বিবেচনায় তা সম্ভব নয়। ৮০ হাজার ইয়েন বাড়তি দিলে সুবিধা হবে ঠিকই, কিন্তু তাতেও খরচ মিটবে না। তাই আমরা বাস্তবতাকে মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  একটা বাচ্চাকে বড় করতে প্রচুর খরচ হয়।”

আয়াকো জানান, কোভিডের পর পরিবারের আয় কমেছে। খরচ বেড়েছে। খাবার ও গাড়ির তেলের দাম খুবই বেড়ে গেছে। ফলে তারা আর খরচ বাড়াতে চাইছেন না। এই অবস্থায় জাপান সরকারের নতুন উদ্যোগ সফল হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আমাদেরকাগজ/ এইচকে