ডেস্ক রিপোর্ট
নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নীলুর বিরুদ্ধে নিজের শিক্ষা সনদ জালিয়াতির পর এবার হিন্দু পরিবারের জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার বিরুেদ্ধে নড়াইল জেলা কমিটি ও উপজেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদ বিক্রি এবং ইউনিয়ন পরিষদ-পৌর নমিনেশন বানিজ্য সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নিজাম উদ্দিন নিলু। তিনি কেরু এন্ড কোং ( দেশী মদ) নড়াইল, যশোর ও ঝিনাইদা জেলার ডিলার। এটাই তার প্রধান ব্যবসা।
এছাড়া আওয়ামীলীগের জেলা কমিটিতে বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে যুগ্ম সম্পাদক পদে বসানো হয় শরীফ মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে, যার জীবনে এটাই প্রথম পদ। জেলা কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিল বাবু নামে এক ব্যক্তি। যিনি নিলুকে টয়োটা নোয়া মাইক্রো বাস উপহার দিয়ে এ পদ পায় বলে অভিযোগ আছে। ইউনিয়ন নমিনেশনের ক্ষেত্রেও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সাবেক ছাএদলের নেতা খশরুল আলম পলাসকে গত জেলা আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক বানানোর অভিযোগ এই নেতার বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন খুলনা ডে নাইট কলেজের ছাত্রশিবির থেকে নির্বাচিত আপ্যায়ন সম্পাদক খান জাহাংগীর আলমকে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পদ বাণিজ্য ছাড়াও পৌরসভায় বিভিন্ন হিন্দুদের সম্পত্তি একের পর এক দখল করে যাচ্ছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার নিজের বাড়ীটিও হিন্দুদের তাড়িয়ে দখল করা বলে জানা গেছে। নিলু যে বাড়িটিতে বসবাস করছে সেখানে ৩০ শতাংশ জায়গার মাত্র ৬ শতাংশ তার। বাকি ২৪ শতাংশ ভুত ঠাকুর নামে এক হিন্দু পরিবারের। তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে ভুত ঠাকুরের জায়গা দখল করেন তিনি।
তার শিক্ষা সনদের বিষয়ে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন নীলু ২ বার এসএসসি ফেল করে ৩য় বার ভবানীপুর এলাকার একটি স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে ৩য় বিভাগে পাশ করেন। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের হলফনামায় নিজেকে এমএসসি পাস হিসেবে উল্লেখ করায় অনেকের সন্দেহ হয়। হলফনামায় দেখা যায়, তিনি এমএসসি ডিগ্রিধারী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি ‘আমেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালের এমএসসি পাস সনদ সংযুক্তি দিয়েছেন। ওই সনদে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যান সায়েন্স’ থেকে তিনি ‘মাস্টার্স অব সোশ্যাল সায়েন্স’-এ এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অভিযোগের জবাবে মঞ্জুরি কমিশন জানায়, ২০০৬ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়! তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধের আগে অনুমোদিত প্রোগাম ছিল মাত্র দুটি। সেগুলো হলো– বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট এবং বিবিএ ইন মার্কেটিং।

আর নিজাম উদ্দিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিএ পরীক্ষায় পাস করেছেন মর্মে সনদ দাখিল করেন। উক্ত সনদে রোল পি- ৪৪০৮২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৮৩০, শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৪! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৯ অক্টোবর এক চিঠিতে জানায়, এই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে একই কলেজ থেকে অন্য এক ছাত্র পাস করেন, যার নাম নাজমুল বারী। রোল ও রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী নিজাম উদ্দিন নামের মিল নেই! এদিকে হলফনামায় ও ভোটার আইডি কার্ডের তালিকায় তার নাম নিজাম উদ্দিন খান নীলু লেখা আছে কিন্তু বিএ পাসের সনদে লেখা আছে নিজামুদ্দিন খান। এসএসসি, বিএ ও এমএসসিতে তার নামের বানান তিন রকম!

উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (সংশোধিত আইন ২০১১)-এর ধারা ১০-এ বলা হয়েছে যে, চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্বত্ব, দখল, স্বার্থ আছে এমন সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ লিখিতভাবে দাখিল করবে। একই আইনের ধারা ১৩(১)-এর (অ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনও চেয়ারম্যান অসদাচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি এই পদ থেকে অপসারিত হবেন। উপধারা (অ)-এ বলা হয়েছে, অসদাচরণ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, ধারা ১০ অনুযায়ী সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা দেওয়া কিংবা অসত্য তথ্য সম্বলিত হলফনামা প্রদান করা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন খান নিলুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






















