স্বল্পমূল্যে প্লট ও ফ্ল্যাট দেবার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নাসিম রিয়েল এস্টেট। প্লটপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে প্রায় পাঁচ হাজার চুক্তি করেছে এ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার কথা বলেও কিছু গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার সহযোগী স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. ইমাম হোসেন নাসিম (৬৬) ও তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমা (৩২)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলেন, ‘২০০২ সালে নাসিম রিয়েল এস্টেট নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে তোলে। সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় সাইনবোর্ড দিয়ে কিছু খাসজমি, দখল করা জমি দেখিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্লটপ্রতি পাঁচলাখ টাকা করে নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার চুক্তির কথা আমরা জানতে পেরেছি। রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার কথা বলে আরও সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা করে এক একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার কথা জানতে পেরেছি।’
ডিআইজি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রতারণার শিকার মানুষদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যেতেন। অস্ত্র প্রদর্শন ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিশ্চিত করতেন নিজের নিরাপত্তা। গ্রেফতার এড়াতে আন্ডারগ্রাউন্ডে তার গোপন সুড়ঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত দরজার গোপন অফিসে আত্মগোপনে থাকতেন। নাসিমের অনুপস্থিতিতে তার এই প্রতারণার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, এক লাখ ৩৫ হাজার জাল টাকা, ১৪শ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, চারটি ওয়াকিটকি সেট, ছয়টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক বই এবং ৩২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও জালটাকা মামলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।






















