অপরাধ ও দুর্নীতি ৩ অক্টোবর, ২০২০ ০৭:০৪

দেশে থেকেও অধরা মানব পাচারকারী বিজন

নিজস্ব প্রতিবেদক 

মেহেদী হাসান বিজন ব্রুনাইয়ে প্রথম গিয়েছিলেন শ্রমিক হিসেবে। এরপর দেশটিতে থেকে এক নারীর সঙ্গে যৌথভাবে, কখনও এককভাবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো শুরু করেন। কখনও ওয়ার্ক পারমিটে, কখনও টুরিস্ট ভিসায় মানবপাচার করতেন দেশটিতে।

নিজের বৈধ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি না থাকলেও ব্রুনাইয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘নামসর্বস্ব’ ১৫টি কোম্পানির চাহিদায় বৈধ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে লোক পাঠাতেন তিনি।

সর্বশেষ চার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন কোটি টাকা নিয়ে মাত্র ৬০ জনকে ব্রুনাইয়ে নিয়ে যায় বিজনচক্র। কাজ না পেয়ে দেশটির রাস্তায় কাটতে থাকে তাদের দিন। পরে পরিবারের আর্থিক সহযোগিতায় গত জানুয়ারিতে দেশে ফিরে আসেন তারা। দেশে ফিরেই বিজনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মানবপাচার ও প্রতারণা আইনে অন্তত ২১টি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

গত বুধবার র‌্যাব-৩ এর একটি দল বিজনের অন্যতম সহযোগী শেখ আমিনুর রহমান হিমুকে গ্রেফতার করে। একইসঙ্গে তার দুই সহযোগী নূর আমিন ও বাবুল রহমানকে অস্ত্রসহ কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মানবপাচার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তবে এখনও অধরা রয়েছেন ব্রুনাইয়ে মানবপাচার চক্রের প্রধান মেহেদী হাসান ওরফে বিজন (২৮)।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার মানব পাচার করা হয়েছে। হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিজন ও তার অন্য সহযোগীরা ঢাকাতেই আছেন। কৌশলে গা ঢাকা দিয়েছেন। ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি এড়িয়ে চলছেন।

সর্বশেষ রাজধানীর কাফরুল থানায় দুটি মামলা করেন প্রতারণার শিকার হয়ে ব্রুনাইয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসা দুই ভুক্তভোগী। মামলা নং- ৩৫ ও ৩৬। দুই মামলাতেই চক্রের মূলহোতা হিসেবে উঠে এসেছে বিজনের নাম।

র‌্যাব-৩ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার অভিযোগে মেহেদী হাসান বিজন ও তার সাত সহযোগীর পাসপোর্ট বাতিল করে ব্রুনাইয়ের সরকার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। পরে সারাবিশ্বে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মেহেদী হাসান বিজনসহ পাঁচজনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাদের একজন কম্বোডিয়া এবং আরেকজন মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, মেহেদী হাসান বিজন নয় বছর আগে শ্রমিক ভিসায় ব্রুনাইয়ে যান। তার বাড়ি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার যতারপুরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাকে চেনেন না। তার বাবা মোস্তাকিন হাসান পেশায় কৃষক।

মেহেদী হাসান বিজনসহ অন্যান্য চক্রের মাধ্যমে যারা ব্রুনাইয়ে গেছেন আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে তারা বৈধ ভিসায় ব্রুনাই গেছেন। সেখানকার কোম্পানিগুলোই ভিসাগুলো পাঠাচ্ছে। কিন্তু তারা নামসর্বস্ব। ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলোর যোগসাজশ রয়েছে। বিজনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে ১৫টির মতো কোম্পানি।

এদিকে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল রাকিবুল হাসান বলেন, ব্রুনাইয়ে মানবপাচারের মূলহোতা মেহেদী হাসান বিজন। হিমু দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন, বিজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। গ্রেফতার হিমু বিজনের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ব্রুনাইয়ে মানবপাচার করতেন। আমরা জেনেছি, বিজন ঢাকাতেই আছেন। তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।