আশিকুর রহমান শুভ
আগারগাঁওয়ের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবহৃত গাড়িগুলো থাকে আশপাশের খালি জায়গায়। এসব জায়গা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা। এর আড়ালেই গাড়ির ট্যাঙ্ক থেকে পাইপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে বের করা নেওয়া হয় জ্বালানী তেল। অর্ধেক দামে বিক্রি হয় ওই সব গাড়ির তেল। এতে চালক ও দোকানিরা লাভবান হলেও ক্ষতি হচ্ছে গাড়ির মালিকসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা। আগারগাঁও সংসদ সচিবালয় এলাকা। ঢাকা মেট্রো ঠ-১৩-৫৬৭৪ নম্বরের একটি সরকারী গাড়ি এসে থামে একটি টং দোকানের সামনে। দোকান থেকে রবারের নল এবং পাঁচ লিটারের একটি গ্যালন নিয়ে বেড়িয়ে আসে দোকানের মালিক মোঃ সেলিম তেলের ট্যাংক থেকে রবারের নল দিয়ে বিশেষ কায়দায় পাঁচ লিটার তেল বের করে প্রথমে গ্যালন রাখে। তারপর সেই তেল নিয়ে রাখা হয় পাশে থাকা বড় ড্রামের ভেতর৷ এই সময় ড্রাইভারের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি গাড়ি টান দিয়ে পালিয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পরে আসে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (চট্র মেট্রো গ-১২-০৬৬০) এটা থেকেও একি কায়দায় বের করে নেয়া হয় দুই লিটার তেল। ড্রাইভারের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি দৌড়িয়ে পালিয়ে যান পরে সেলিমের সহযোগী গাড়িটি নিয়ে বের হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি জানায়, প্রতিদিন গড়ে একটি দোকানে ১৫-২০টি করে গাড়ি তেল বিক্রি করতে আসে, গড়ে এক দোকানে তেল বিক্রি হয় ৬০-৭০ লিটার, চারটি দোকানে প্রতিদিন কয়েক শ লিটার তেল তাঁরা প্রায় অর্ধেক দামে কিনেন তারা৷ পরবর্তীতে সেই তেল চলে যায় বড় ব্যবসায়ীর হাতে৷
অনুসন্ধানের সময় দেখা যায়,পাশের একটি তেলের দোকান পরিচালনা করেন মো. সেলিম নামের এক ব্যক্তি৷ প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল কেনেন, তার কিছু অংশ বিক্রি করে দেন সাধারণ চালকদের কাছে৷ বাকি তেল বিক্রি করেন বড় ব্যবসায়ীদের কাছে৷
মোহাম্মদপুর এলাকায় চলছে একই ভাবে চুরির যজ্ঞ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী পলিটেকনিক ইন্সটিউটের পাশের গলিতেও দেখা যায় একি চিত্র। গাড়ির ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে বোতলে ভরা হচ্ছে তেল।
একই চিত্র মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ের কাল্ভারটের উপরেও, সেখানে গিয়ে দেখা যায় বেসরকারি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি করতোয়ার পিকাপ থেকে একই ভাবে নামানো হচ্ছে তেল।
এই বিষয়য়ে মোহাম্মাদপুর থানার পরিদর্শকের সাথে দেখা করতে গেলে,তাকে থানায় পাওয়া যায়নি, কর্তব্যরত উপ পরিদর্শক জানান বিষয়টি তাদের জানা নেই, তাঁরা দ্রত ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দেন।
একটি সূত্র জানায়, রাজধানীতে আরও ২০টি জায়গায় এ রকম অবৈধ তেল চুরির কারবার চলে৷






















