অর্থ ও বাণিজ্য ১১ অক্টোবর, ২০২৩ ০৪:০৭

ষাটের নিচে মিলছে না সবজি, ঊর্ধ্বমুখী ডিম-পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক (তুষার আহম্মেদ) : নিত্য পণ্যে যেন নিত্য অভিযোগ ! এর শেষ কোথায় বলতে পারছে না যেন কেউই। ঊর্ধ্বগতির বাজারে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। আবার বেড়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দামও।

 দিকে মুরগির বাজার যেন নিত্য ওঠা- নামা করছে। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে বাকি সব পণ্যের দাম। আজ (বুধবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এতদিন বন্যার অজুহাতে নানা পর্যায় সবজির দাম বাড়লেও এখন ঠিক কি কারণে সবজির বাজার নিয়ন্তণে আসছে না এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বাজারের সবজি ও মৌসুমি বিক্রেতারা। 

সরোজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা; লম্বা বেগুন ১২০, গোল বেগুন ১৬০ টাকা। অথচ কদিন আগেও বেগুনের দাম ছিল ৮০-১০০ টাকা। বাজারে ভারতীয় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, আগে কেজি ছিল ১২০ টাকা। চাল কুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকা; মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৮০; পটল ৬০; ঢেঁড়স ৬০; কচুর লতি ৮০; পেঁপে ৪০; মুলা ৮০ টাকা; বরবটি ১২০ ও ধুন্দল ৭০-৮০ টাকা কেজি।

ফুলকপি-৮০, বাঁধাকপি- ৬০ টাকা। সিমের কেজি ৬০ টাকা; গাজরের কেজি ১২০, করলার কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, আগে কেজি ছিল ২৪০ থেকে ২২০ টাকা। এছাড়া বাজারে কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

ধানমন্ডি বাজারের সবজি বিক্রেতা আসাদ বলেন, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাজারের সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। পেঁপে ছাড়া, ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। 

এসব বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়, আগে কেজি ছিল ৬০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, আগে কেজি ছিল ৮০-৯০ টাকা। বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ভারতের কেরেলার আদা কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। চায়না রসুনের কেজি ১৮০-২০০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি ২০০-২২০ টাকা।

বাজারের মুরগি বিক্রেতা আলী বলেন, দাম বাড়া-কমার মধ্যেই আছে। (শুক্রবার)) এলে দাম ২০-৩০ টাকা বাড়ে কেজিতে। আর সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় কমে যায়। কারবারি বা ফার্মের মালিকরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ায়। মূলত সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ে-কমে।

বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। আগে ছিল ১৫০ টাকা ডজন। আর এখন পাড়া-মহল্লার দোকানে হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২২৫-২৩০ টাকায়। হালি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়, আগে ছিল ৭০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০ টাকা।

এদিকে বাজারে গরুর মাংস বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। বাজারে খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-১০৫০ টাকায়।

বাজারে খোলা চিনির দাম প্রতি কেজি ১৩৫-১৪০ টাকা। খোলা আটার কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা; প্যাকেট আটার কেজি ৬৫ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। দেশি মসুরের ডালের দাম কেজি প্রতি ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ৯৫-১০০ টাকা।

সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৭৮ টাকায়। লবণের কেজি ৩৮-৪০ টাকা। দাম কমেনি আলুর। বাজারে আগের মতোই আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে।

আমাদেরকাগজ(এমটি)