জাতীয় ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৪

নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আসল,সাল ২০২৩ 

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ মহাকালের আবর্তে বিলীন হলো ২০২২ সাল। এ বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে সারাবিশ্বের সাথে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করা হলো ২০২৩ সালকে। বিশ্বজুড়ে এবারও কোটি কোটি মানুষকে জানান দিয়ে আসল নতুন বছর, জানালো স্বাগত। 

বরণ করে নেওয়া হয়েছে নতুন বছরকে, স্বাগত ২০২৩। সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে নতুন বছরকে। গত হওয়া বছরের দুঃখ-বেদনা, হাসি-কান্নাকে ভুলে নতুন কিছু, নতুন আলোর প্রত্যাশায় বরণ করা হয় নতুন বছরকে। 

ইংরেজি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনায় নগরবাসীকে থার্টি ফার্স্ট উপলক্ষে কোনো আতশবাজি, পটকা কিংবা ফানুস না ওড়াতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‘খ্রিষ্টীয় নববর্ষ-২০২৩’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৩ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। সময়ের চিরায়ত আবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ আমাদের মাঝে সমাগত। নতুনকে বরণ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি।

প্রতিবছরের মত এই দিনটিতে বর্ষবরণে নানা আয়োজনে মেতে উঠে জাতি। তবে এবার বর্ষবরণে নানা বিধিনিষেধ থাকায় আনন্দ উদযাপনে কিছুটা ভাটা পড়লেও তা থেমে থাকেনি। উম্মুক্ত স্থানে কোনো আয়োজন না করতে পারলেও আতশবাজি ও ঘরোয়া আয়োজনে মেতেছিল সবাই। এ ছাড়া যান চলাচলে সীমাবদ্ধতা থাকায় রাজধানীতে এবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজনেই সন্তষ্ট থাকতে হয়েছে সবাইকে। এরমধ্যেই কেউ কেউ বিধিনিষেধ অমান্য করেই পটকা ও আতশবাজি প্রকাশ্যে ফুটিয়ে আনন্দ উদযাপন করেছেন।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন (পুলিশ ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ বছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে যেকোনো ধরণের আতশবাজি, পটকা কিংবা ফানুশ উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া র‌্যাবের পক্ষ থেকেও ছিল বিভিন্ন নিষেধাক্কা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে ‘খ্রিষ্টীয় নববর্ষ-২০২৩’ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুভেচ্ছা বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, নবববর্ষ সকলের প্রাণে জাগায় নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা।নতুনকে বরণ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি।

বিরাজমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি দুঃস্থ, অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর নববর্ষকে বরণ করতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপি নানা আয়োজন করা হলেও করোনা মহামারির কারণে বিগত দুই বছর উৎসবের আমেজ ছিল অনেকটাই ম্লান। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ২০২২ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ। আমরা গত বছর ২৬ জুন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মাসেতু চালু করেছি। ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল যোগাযোগ চালু করেছি। ২১ ডিসেম্বর দেশের ৫০টি জেলায় উন্নয়ন করা ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করেছি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল'-এর দক্ষিণ টিউবের কাজ সম্পন্ন করেছি। ৭ নভেম্বর দেশের ২৫টি জেলায় ১০০টি সেতু নির্মাণ করে উদ্বোধন করেছি। ১৯ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টও প্রেসার ভেসেল স্থাপন করেছি। ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) উদ্বোধন করেছি। আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সকল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।

নবববর্ষে আমাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। পুরাতন দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন বছরে অপার সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলতে প্রেরণা জাগায়।

আমাদের কাগজ/এম টি