ডেস্ক রিপোর্ট ।।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে অনেকেই অখুশি। কিন্তু কেউ অখুশি হলেও কিছু করার নেই। দুর্নীতি করে কোনও অপরাধীই ছাড় পাবে না। দলীয় লোক হলেও ছাড় পাবে না। সামগ্রিক স্বার্থেই সমাজে বৈষম্যের জায়গাটিতে এ ধরনের আঘাতের প্রয়োজন ছিল।
স্থানীয় সময় রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে আর যেন ওয়ান ইলেভেন না হয়, সেকারণেই দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সামাজিক বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করাটাও এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে কেউ কেউ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। এতে বৈষম্য দেখা দিচ্ছে সমাজে। তা দূর করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল নিশ্চিতেই চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।
অভিযান শুরুর পর ঘুরেফিরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নাম গণমাধ্যমে আসছে- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা দীর্ঘকাল যাবৎ রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছি। তাই একটু কিছু হলেই তা ফলাও করে প্রচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”
সমাজে সমতা আনতে এ ধরনের অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া লোকজনের কারণে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে এবং সৎভাবে যারা আয়-উপার্জন করেন তাদের সন্তানেরা হতাশায় ভোগেন। শিশুরা তো বুঝতে পারে না, তাই তারা মা-বাবার কাছে জানতে চায়- ‘ওরা যদি দামি গাড়িতে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে, দামি পোশাক পরতে পারে, আমরা কেন পারি না?’ এমন পরিস্থিতিতে একটি সমাজ এগোতে পারে না। এমন পরিস্থিতির অবসানের জন্যই একটি আঘাত দেয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটি করা হচ্ছে সামগ্রিক স্বার্থে।”
শেখ হাসিনা বলেন, এই যে অনিয়ম, সেটির শুরু কোথায়, গোড়াটা কোথায়- সেটি তো দেখতে হবে। পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পরই যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে শুরু করেছে, ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে চাইছে, তখনই তারা একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করেছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। মানি ইজ নট আ প্রবলেম- এমন কথা বলেই তো কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে রাজনীতিকে নষ্ট করা হয়েছে। এখনও তারাই ঘুষ খাবে, দুর্নীতি করবে, সবকিছু করবে। আবার হালাল মাংসও খুঁজবে। এটাই তো ওদের চরিত্র।
তিনি বলেন, মসজিদে যাবে নামাজ পড়তে, সেখানে গিয়েও তার ফুটানি দেখাতে হবে, তার বডিগার্ড থাকবে, তার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে, তার গাড়ি ঢুকবে বলে সব গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে, তার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স- যাদের কোনো লাইসেন্স নেই, কোনো নিয়ম নেই, কিছু নেই, মনে হয় কোনো দেশের রাজা এসেছে নামাজ পড়তে। এমন বৈষম্য কেন থাকবে?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ যত ওপরে উঠে, তত ভদ্র হতে হয়, হাম্বল হতে হয়। আর আমাদের উল্টো। এটা হয় তখনই, যখন হঠাৎ করে পয়সার জোরে নিচ থেকে অনেক ওপরে যায়, তখন তারা ভাবে ‘মুই কী হনুরে’। সমাজের এই জায়গাটায় একটি আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-আপ করা, আর যারা সৎপথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে, এটা তো হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “আমি অভিযান চালাচ্ছি। কিছু মানুষ অখুশি হতে পারে। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমার কোনো সম্পদের মোহ নেই। ক্ষমতারও মোহ নেই। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমি দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই তার আদর্শ দিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে।

















