রাজনীতি ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১১:২৫

১০ ডিসেম্বর ঢাকাকে ‘অবরুদ্ধ’ করার চিন্তা আ’লীগের

ছবিঃ ইন্টারনেট

ছবিঃ ইন্টারনেট

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ  বিএনপির মহাসমাবেশ সামনে রেখে জল্পনা-কল্পনার যেন শেষ নেই। মানুষের কানাঘুষা থেকে এরই মধ্যে জানতে পাওয়া গেছে ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে উঠতে পারে। সমাবেশকে সামনে রেখে এমন তথ্য উঠে এসেছে এর ই মধ্যে।  

তথ্য অনু্যায়ী, রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখ গুলোতে থাকতে পারে অদৃশ্য পাহারা। তবে পরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক পাহারায় থাকবেন বলে জানা গেছে। সরকার, আওয়ামী লীগ ও পরিবহন খাতের একাধিক সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বললে এসব তথ্য জানা যায়।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ রাজধানীর অন্যতম বড় প্রবেশমুখ সাভারে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ওই দিন রাজধানীতে দুটি সমাবেশ করতে দলের অনুমতি চেয়েছে।

সমাবেশের সিদ্ধান্ত না পেলে ওই দিন রাজধানীর প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে অবস্থান নেবেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজেদের সুবিধামতো স্থানে সতর্ক অবস্থান নেবে। এ ছাড়া বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের মতো ঢাকার মহাসমাবেশের সময়ও পরিবহন ধর্মঘট ডেকে কিংবা পরিকল্পিতভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। ফলে বিভাগীয় সমাবেশগুলোর মতো ঢাকায় বড় জমায়েত করা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।   

এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা অভিযাত্রা’ করতেই দেওয়া হয়নি। এবার হয়তো এমনটা হবে না। তবে বিনা বাধায় কয়েক লাখ লোক ঢাকা এনে বসে পড়বে, এটাও হতে দেওয়া হবে না। তাঁদের সমাবেশ যাতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সীমাবদ্ধ থাকে, সেটাই নিশ্চিত করা হবে। 

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এবার বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এবং আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ঢাকায় আসতে চাইছে। তারা ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সামনে রেখে জনমনে একটা সাড়া ফেলা এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, বিএনপিকে স্বাধীনভাবে সমাবেশ করতে দিলে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লোক এনে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। এমনটা না হলেও বড় জমায়েত দেখিয়ে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রমাণ করতে চাইবে। এতে আওয়ামী লীগের কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, সিলেট, কুমিল্লা ও রাজশাহীতে বিএনপির পরবর্তী গণসমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বাড়তি কোনো পরিকল্পনা নেই। স্থানীয়ভাবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট হয়তো থাকবে। পাশাপাশি বিএনপির ওই সব গণসমাবেশের দিন কোনো কোনো জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন কিংবা কর্মী সমাবেশ থাকবে। ফলে গণমাধ্যমে বিএনপির গণসমাবেশ একচেটিয়া প্রচার না-ও পেতে পারে।

 

আমাদের কাগজ/ এম টি