ডেস্ক রিপোর্ট।।
নতুন রাজনৈতিক দলের মূলভিত্তি ধর্ম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি এবং জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. মজিবুর রহমান মঞ্জু। আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে তাদের নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে বলেও আশা করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা জানান জামায়াতের এই সাবেক নেতা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র, ইশতেহার, কর্মসূচি, নাম ইত্যাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষের সাথে আমরা কথা বলছি, মতামত নিচ্ছি। আমরা বেশি সময় নিতে চাইনা আবার তাড়াহুড়ো করতে চাইনা।’
বিবিসি’র এক প্রশ্নে জবাবে মঞ্জু বলেন, ‘ধর্ম তাদের দলের মূল ভিত্তি হবেনা। আমাদের দল কোনো ধর্মীয় দলও হবেনা, ধর্ম নিরপেক্ষও হবেনা। ধর্ম মানুষের বোধ এবং বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ পথ। ধর্ম থেকে আমরা অবশ্যই অনুপ্রেরণা নেব, কিন্তু আমাদের দল কোনো ধর্মভিত্তিক দল হবেনা।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি ধর্মভিত্তিক দলে তো অন্য ধর্মের লোকজন আসবে না। মানুষের ধর্ম থাকতে পারে, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের কোনো ধর্ম থাকতে পারেনা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে।’
মঞ্জু আরো বলেন, ‘তাদের দলের মূল লক্ষ্য এবং আদর্শ হবে তিনটি - জনকল্যাণ, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সেই আদর্শের ভিত্তিতে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। তাদের নতুন দলের অবস্থান কী হবে এ ব্যাপারে?
এই প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, ‘তারা ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে তাদের অবস্থা সুস্পষ্ট করবেন।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীতে থাকার সময়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দলের অবস্থান সুস্পষ্ট করার পক্ষে অনেকবার মত দিয়েছেন। জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু এ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার না করলে মূলধারার রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা পেতে কষ্ট হবে, দলের ভেতর এমন কথা আমি অনেকবার বলেছি।’
কেন বাংলাদেশে এখন নতুন একটি দল গঠন প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন?
এই প্রশ্নের জবারে জামায়াতের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘রাজনীতির পুনর্গঠন বাংলাদেশের জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান একটি সঙ্কট হলো অনৈক্য, আর মূলত এই অনৈক্যের কারণে বিচারবিভাগ, গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মত প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন রাজনীতি প্রয়োজন।’
মঞ্জু আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্র এবং মানুষের সার্বজনীন অধিকারের ইস্যুকে তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য তৈরি সম্ভব। শুধু অধিকারের কারণেই কোটা আন্দোলন বা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ মানুষ হয়েছিল.. মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনেও মানুষের ঐক্য সম্ভব হয়েছিল অধিকারের ইস্যুতে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দলের আদর্শই হবে মানুষের অধিকারের কথা বলা, তাদের সার্বজনীন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’
কী নাম হবে তাদের দলের? এই প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, ‘তিনটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে কৌশলগত কারণে এটা এখন প্রকাশ করতে চাইনা।’






















