নিজস্ব প্রতিবেদক (তুষার আহম্মেদ) : সামনে জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচন। আর নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ক্ষমতার বিভিন্ন কলাকৌশল। এদিকে, প্রকাশ্যে নির্বাচন না করার কথা বললেও তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনরা চান বরাবরের ন্যায় এবারও নির্বাচনী বৈতরণি পার হবেন। নির্বাচনের বাকি তিন মাস। এখনই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা মিলছে ঘোর চিন্তার ভাঁজ কপালে।
একটু ঘুরে তাকালে দেখা মিলবে, এখন পর্যন্ত যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিটিতে আওয়ামী লীগের ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে, এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। যাদের ভোটে ক্ষমতা নিশ্চিত হবে সেই ভোটাররা কি নিজ নিজ অধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন? স্থানীয় সরকারসহ একাধিক নির্বাচনে যাদের উপস্থিতি সেভাবে লক্ষ করা যায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেই ভোটারদের উপস্থিতি একান্ত কাম্য ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধীদল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার ও দুষ্প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
তারা বলছে, জাতীয় নির্বাচনে গা ছাড়া ভাবের কোনো সুযোগ নেই। বিরোধীপক্ষ সামান্যতম সুযোগও হাতছাড়া করবে না।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিরোধী দল যদি শক্তিশালী থাকে। এগুলো বাড়ে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক একটু হলেও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করে। ফলে এর প্রতি আকর্ষণও একটু কম থাকে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হতে পারে ভোটারের উপস্থিতি আগের চেয়ে কম। কিন্তু যখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে, তখন নিশ্চয়ই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বেন।’
তিনি বলেন, ‘ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে যাবে।পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে এটা তার নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা সভা-সমাবেশ করছি। ভোটারদের নৈতিক অধিকারের বিষয়ে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, আগামীতে যারা প্রার্থী হবেন, তারা তাদের মতো করে জনমত তৈরির চেষ্টা করবেন। সেখানে তারা ভোটারদের অধিকারের বিষয়গুলো উপস্থাপনের চেষ্টা করবেন। আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি থাকবে।’
বাড়ছে প্রাপ্ত ভোটের হার
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৬৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মাত্র সাতটি আসনে জয় পায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের চেয়ে বেশি আসন পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টি। তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২২টি। অন্যান্যরা চারটি আসনে জয়ী হয়।
সবকিছু মিলিয়ে মনে হতে পারে, ভোটারের উপস্থিতি আগের চেয়ে কম। কিন্তু যখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে জানান সিনিয়র নেতাবৃন্দ
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রাপ্ত ভোটের হার ৭৫ শতাংশ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোট ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের ১১০ জন প্রদত্ত ভোটের ৯০ শতাংশেরও বেশি পান।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫.৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.০৮ শতাংশ, বিএনপি ৩০.৮১ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১১.৯২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ১২.১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল পেয়েছিল ১৫.০৬ শতাংশ ভোট।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়েছিল ৭৫.৪৯ শতাংশ ভোট। সেখানে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৯.৪৪ শতাংশ, বিএনপি ৩৩.৬০ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১৬.৪০ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৮.১৬ শতাংশ এবং অন্যান্য দল পেয়েছিল ৪.০৪ শতাংশ ভোট।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেখানে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০.১৩ শতাংশ, বিএনপি ৪০.৯৭ শতাংশ, জাতীয় পাটি ১.১২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৪.২৮ শতাংশ এবং অন্যান্য দল পেয়েছিল ১৩.০৫ শতাংশ ভোট।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৮৬.৩৪ শতাংশ। সেখানে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪৮.০৪ শতাংশ, বিএনপি ৩২.৫০ শতাংশ, জাতীয় পাটি ৭.০৪ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৪.৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য দল পেয়েছিল ৭.৭২ শতাংশ ভোট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আগের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়ছে। বর্তমানে কেন্দ্রে ভোটার টানার বিষয়ে বেশ টেনশনে আছে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
২০১৪ সালের (৫ জানুয়ারি) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ শতাংশ। সেখানে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭২.১৪ শতাংশ, জাতীয় পাটি ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য দল পেয়েছিল ২০.৮৬ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়ছে। অনেক সময় ভোট বাড়লেও ক্ষমতায় আসতে পারেনি দলটি। বর্তমানে কেন্দ্রে ভোটার টানার বিষয়ে বেশ টেনশনে আছে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিএনপির পদত্যাগে শূন্য হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ২ ও ৩, বগুড়া- ৪ ও ৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ ও ঠাকুরগাঁও- ৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ভোট পড়েছে গড়ে ২৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশের নির্বাচনী ঐতিহ্যের নিরিখে এটি খুবই কম।






















