সিফাত কবীর ।।
হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া ছালাম বেগ এখন প্রতিথজশা আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরুকে সরিয়ে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কুমিল্লায় এখন একটি কথাই ঘুরে বেড়াচ্ছে নন মেট্রিক ছালাম বেগ অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর দায়ে গ্রেফতার খালেদের ঘনিষ্ঠ।
এদিকে এমপি হওয়ার নেশায় বুদ হয়ে প্রচার প্রচারনার কাজে অঢেল অর্থ ব্যায় করে যাচ্ছেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যে অত্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারন প্রকৃত অর্থে তার জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। যদিও এদিকে একজন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মচারীর হঠাৎ ব্যাপক অর্থের মালিক হওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কারন তার অর্থের উৎস সেই ভাবে কারো জানা নেই।

নানা প্রশ্নের দোলাচলে যখন কুমিল্লাবাসী দোদুল্যমান তখন এর গুরুত্ব বিবেচনায় আমাদের কাগজ বিষয়টি খতিয়ে দেখে। এর আগে প্রতিনিধি মারফত খবর পাওয়া যায় যে ছালামের পোষ্টারে পুরো উপজেলা ছেয়ে গেছে। জেলা ভিত্তিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় শোভা পাচ্ছে তার শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন।
তার প্রচার প্রচারনা দেখে মনে হচ্ছে যেন তিনি প্রচারনাকে সম্বল করেই জনগনের সমর্থন বাগিয়ে নেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন।
এমতাবস্থায় আমাদের কাগজ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেন, এবং এও জানান তিনি ৩২ বছর যাবত দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। উল্লেক্ষ্য ৩২ বছর যাবত তিনি রাজনীতি করার দাবী করলেও এই হঠাৎ প্রচারনার ঘটনার আগে এলাকাবাসী তাকে চিনতোই না। সেই হিসেবে তার দাবীকৃত তথ্যগুলোর সাথে এলাকাবাসীর কথার সাথে কোন মিল নেই।

এছাড়াও তিনি আমাদের কাগজের সাথে আলাপকালে কুমিল্লার ৫ আসনের এমপি আব্দুল মতিন খসরুকে চেনেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন একটি সুর তুলেছিলেন যেন তিনি মতিনকে চেনেনই না, পরে যখন আমাদের কাগজের প্রতিনিধি উচ্চারন করেন ‘আইনজীবী মতিন’ তখন তিনি চিনতে পারেন।
এছাড়াও একাধিক জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীর সাথে কথা বলে বোঝা গেছে, তারাও অনেকটা হতভম্ব ছালামের এই প্রচার প্রচারনায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ছালাম দলের বিপদে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ফেলে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে ছিলেন, তারপর দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন সে দেশে ফিরে আসেন। সে হিসেবে এই ধরনের সুযোগ সন্ধানী নেতার বড় আকারের প্রচারনা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর বলে মত দেন তিনি।

সেই নেতা আরো জানান, ছালাম দলের দুর্দিনে না থেকে সুদিনে সুবিধা ভোগ করতে দেশে ফিরে আসে। এই সকল নেতা কোন দিনই দলের এবং এলাকাবাসীর উন্নয়নের কথা ভাবতে পারে না।
আমাদের কাগজ পত্রিকাকে ছালাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে, তার রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাবস্থায় তিনি বিভিন্ন মামলার কারনে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তিতে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

ক্যসিনো খালেদের সাথে তার সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে বুড়িচং উপজেলাবাসী জানিয়েছেন সাংবাদিক এবং পুলিশ মিলে যদি অনুসন্ধান করে তবে বেড়িয়ে আসবে থলের বেড়াল। জানা যাবে তার অর্থের আসল উৎস।
কিন্তু আমাদের কাগজ প্রতিনিধিকে ছালাম বেগ দাবি করেন, ‘’তিনি সম্রাটকে চেনেন না এই তথ্য মিথ্যা, সে যুবলীগ করে আর আমি আওয়ামী লীগ’’। যদিও এলাকাবাসী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে তাকে বেশ কয়েকবার নুর জাহান হোটেলে সম্রাটের এবং খালেদের সাথে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃনমূল কর্মী জানান, ছালাম বেগ ভালো মানুষ, কিন্তু হঠাৎ টাকা পয়সা কিভাবে পেয়েছেন তাতে একটু অবাক। সে এসে খালি আমাদের বলত সে নির্বাচন করবে, কিন্তু কিভাবে করবে তা জানতে চাইলেই একটু এড়িয়ে যেতেন।
এইদিকে আরেকটি সুত্র জানিয়েছে, সে কুমিল্লায় ছালামকে দেখেছে সম্রাট এবং খালেদের সাথে। এবং ছালাম নাকি বলেছেন সম্রাট নাকি তাকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দিবেন। এখন ঘটনার সত্যতা কতটুকু তা তদন্ত করলেই বুঝতে পারবে।






















